Home / জাতীয় / ভোট বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে : বিএনপি

ভোট বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে : বিএনপি

ঢাকা অভিযাত্রা কর্মসূচি সোমবারও চালানোর ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সারাদেশে নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথ-রেলপথ-নৌপথে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।

নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে রোববার ঢাকামুখী অভিযাত্রা কর্মসূচি পুলিশের বাধায় করতে না পারার পর সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সহসভাপতি হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ হাফিজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন দুপুরে আটক করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে হরতাল-অবরোধের পর রোববার সবাইকে ঢাকায় অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নয়া পল্টনে সমাবেশে পুলিশের অনুমতি না মিললেও রোববার এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে তাতে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন বলে শনিবার জানিয়েছিলেন হাফিজ। কিন্তু খালেদা জিয়া বিকালে গুলশানের বাড়ি থেকে নামলেও পুলিশের বাধায় বের হতে না পেয়ে ফিরে যান। তবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ বলেন, পুলিশি বাধায় নয়া পল্টনে গণতন্ত্রের অভিযাত্রার যে সমাবেশটি হয়নি, তা সোমবার হবে। সকাল ১০টায় এই সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

এছাড়া ৫ জানুয়ারির ভোট বাতিল না করা পর্যন্ত সারাদেশে মহানগর-জেলা-উপজেলায় রাজপথ-রেলপথ-নৌপথে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও পেশাজীবীরা অবস্থান নেবেন বলে জানান তিনি।

অবস্থান কর্মসূচি কিভাবে পালিত হবে- জানতে চাইলে হাফিজ বলেন, এটি নতুন কোনো কর্মসূচি নয়। মহাত্মা গান্ধীজীর সত্যাগ্রহের মতো আমরা রাজপথ-রেলপথ-নৌপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাব।

হাফিজ বাধা দেয়ার অভিযোগ করলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কর্মসূচি পালনে কোনো বাধা দেয়া হয়নি।

বিরোধী জোটের এই কর্মসূচিতে জনগণের কোনো সমর্থন ছিল না দাবি করে তিনি আরো বলেন, খালেদা নয়া পল্টনে যাওয়ার ‘নাটক’ করেছেন।

হাফিজ বলেন, এখানে নাটকের কী দেখলেন সৈয়দ আশরাফ? কোথায় তারা লজ্জাবোধ করবেন, কোথায় তারা গণতন্ত্র হরণের জন্য পদত্যাগ করবেন … সেখানে শুধু অশালীন ভাষায় বিরোধী দলের নেত্রীকে আক্রমণ করা, এটিই যেন তাদের দলেও প্রধান কর্ম।

আশরাফের বক্তব্যকে ‘পাগলের প্রলাপ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাকে ‘অবরুদ্ধ’ করার মাধ্যমে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষূণ্ন হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের পোশাক নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকেও ‘রুচিহীন’ উল্লেখ করে তার নিন্দা জানান হাফিজ।

রোববারের কর্মসূচির বিষযে হাফিজ বলেন, সারা বাংলাদেশে কী তাণ্ডব হয়েছে, আপনারা দেখেছেন, বিশেষ করে সাংবাদিকরা। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির‌্যাতন থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না। জাতীয় প্রেসক্লাবেও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০ জন সাংবাদিককে আহত করেছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণেও নজিরবিহীন হামলা হয়েছে।

‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে জনসমর্থন রয়েছে বলেই ‘ভয়’ পেয়ে সরকার নিজেরাই রাজধানীকে ‘অবরুদ্ধ’ করে ফেলে বলে দাবি করেন বিএনপির সহসভাপতি।

হাফিজ বলেন, রাজধানীতে সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। কর্মসূচিতে বাধা দিতে সরকার এ কৌশল নিয়েছে। তাকে (আশরাফ) বলব, পুলিশ ও পেটোয়া বাহিনী সরিয়ে নিয়ে সমাবেশ করুন, দেখা যাবে কার সমাবেশে কত লোকজন হয়।

বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের সমালোচনা করে হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণে প্রমাণ হয়েছে, তারা গণতান্ত্রিক কোনো দল নয়। ’৭৫ সালে তারা একদলীয় বাকশাল করে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। এবার তারা ৫ জানুয়ারি একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন করে গণতন্ত্র হত্যা করতে যাচ্ছে। আমি সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, দেখবেন কয়টা আসন আপনারা পান।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ