Home / জাতীয় / খালেদাকে কাল কোন সমাবেশে যেতে দেওয়া হবে না

খালেদাকে কাল কোন সমাবেশে যেতে দেওয়া হবে না

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের আগামীকাল রোববারের ঢাকা অভিমুখী ‌‌‌‘মার্চ ‍ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকা বা এর আশেপাশে কোথাও সমাবেশ বা জমায়েত হতে দেবে না সরকার। সেই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও কাল কোথাও সমাবেশে যেতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কয়েকজন নেতা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং ডিএমপি পুলিশ সূত্র আজ শনিবার এমনটিই জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকার গত ৫ মে এর ঢাকার শাপলা চত্ত্বরের মতো আর নাশকতা হতে দেবে না।

আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় ধরনের নাশকতার লক্ষ্যেই ১৮ দল এমন কর্মসূচি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি শনিবার বলেন, সরকার বিএনপির লক্ষ্য জানার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশ, গণতন্ত্র এমন কি নিজের দলকে সর্বনাশের মুখে ঠেলে দিয়ে হলেও জামায়াতে ইসলামীকে রক্ষার জন্য অবিচল থেকেছেন।

সরকার এমন পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে থেকে জামায়াতকে নাশকতা করার সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেন বাদশা। আগামীকাল বিএনপিকে নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, বিএনপির আসল লক্ষ্য জনগনের আর বুঝতে বাকী নেই। তাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে আর খাতির করে লাভ নেই।

জামায়াতে ইসলামীর আবদার রক্ষা করতেই ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি ডাকা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাসদ নেতা আব্দুল কাইউম। ১৪ দলের এই নেতা জানান, জামায়াত চাইছে ঢাকায় অবস্থান নিয়ে নাশকতা চালিয়ে সরকারকে অচল করে দিতে। এজন্য তারা বিএনপির কাঁধের উপর ভর করেছে। কিন্তু সরকার আর ৫ মে এর মতো ঘটনা ঘটতে দেবে না। শাপলা চত্ত্বরের সেই নাশকতায় বিএনপি কিভাবে উষ্কানী, সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিল তা দেশবাসী দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতার পর সরকার আর এই অপশক্তিকে বিশ্বাস করবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নেতারা আগামীকাল বিরাধী দল নাশকতা চালাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। যার কারণে ঢাকায় প্রবেশ পথগুলোতে কর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্যেও পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে আওয়ামী লীগের এক নারী সাংসদ জানান, ১৮ দলের কর্মসূচি ঘোষণার দিন থেকেই বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি সরকার বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। আগামীকাল তাঁকে কোন ধরনের জমায়েতে যেতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি বাসায় থেকে ভিডিও বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবার নাশকতা রুখতে ও ১৮ দলের নেতা কর্মীদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবেন বলে জানিয়েছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে কয়েকজন কর্মী জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ট্রাফিক পুলিশ ফেরদৌস খলিলকে পুড়িয়ে মারা ও গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থের মৃত্যুর ঘটনা পুলিশ বাহিনীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফলে আগামীকাল শিবিরের নাশকতা দমনে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ অনেক সক্রিয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ