Home / জাতীয় / দিল্লীর দাসত্ব করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি : আলোচনা অনুষ্ঠানে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা

দিল্লীর দাসত্ব করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি : আলোচনা অনুষ্ঠানে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা

‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ নামক একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আধিপত্যবাদ রুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দিল্লীর দাসত্ব করার জন্য ইসলামাবাদের দাসত্বের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এদেশের সেনাবাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মাধ্যমে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় ছিনতাই হয়ে গেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘বিজয় দিবসের তাৎপর্য এবং বিরাজমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা বক্তব্য রাখেন। আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেজর (অব.) মুহাম্মদ হানিফের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ নূরুদ্দীন খান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, সাবেক নৌ-বাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল (অব.) শাহ ইকবাল মুজতবা, সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট তাসনিম রানা, সাবেক সচিব খান এম ইব্রাহীম, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ আইয়ূব, বিএপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কর্ণেল (অব.) আলী আহমেদ, লে. কর্ণেল (অব.) মণীষ দেওয়ান, কর্ণেল (অব.) মো. ইসহাক মিয়া, কর্ণেল (অব.) মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল, মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।

লে. জে. (অব.) নুরুদ্দীন খান বলেন, আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অনেক আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু যেদিন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হলো, আইন পাস হলো সেদিন যদি আমরা কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারতাম তাহলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তিনি বলেন, এখন তত্ত্বাবধায়কের জন্য আন্দোলন করত গিয়ে প্রতিদিন সহিংসতায় মানুষ মারা যাওয়ায় বিজয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বিজয়ের দিন এলেই আমরা এটা পালনের জন্য নানা আয়োজন করি। কিন্তু এ মাস চলে গেলেই আর কারো খোঁজ থাকে না। খুব সহজেই আমরা সবাই ভুলে যাই।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, আমাদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা কারা যেনো ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। সত্যিকারের স্বাধীনতার তাৎপর্য ও আনন্দ পাচ্ছি না। যখন দেশে বিনা নির্বাচনে ১৫৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছে। এটাই যদি গণতন্ত্র হয় তাহলে আমাদের খুবই দুর্ভাগ্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে প্রধানমন্ত্রী হলেন এটা আমার জানা নেই। তবে তিনি দেশের সঙ্গে একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। এটা গণতন্ত্রের নমুনা হতে পারে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সরকার মিথ্যাচার করছে ও ফালতু যুক্তি দেখাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রিয়ার এড. (অব.) শাহ ইকবাল মুজতবা বলেন, আমরা সুমদ্র জয় করেছি-এটা একটা অসত্য কথা। তা কতটা অসত্য যারা নৌবাহিনীতে কাজ করেন তারা বলতে পারবেন। মিয়ানমারের কাছে আমাদের ব্লক হারাতে হয়েছে। ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা ভাগাভাগির পর বাংলাদেশ নৌবাহিনী দু’দেশের সাথে কথা না বলে গভীর সমুদ্রে যেতে পারবে না।

সাবেক সচিব খান এম ইব্রাহীম বলেন, ১৯৮০ সাল পর্যšত আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারিনি। এটা লজ্জার বিষয়। এ বছর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছিল না বিজয় দিবস পালনে। প্যারেড হলো না কেন তা ভাবার বিষয়। একটি বিদেশী মোবাইল অপারেটরকে দিয়ে বিজয় দিবসে পতাকা বানানোর আয়োজন করা হলো।

লে. কর্ণেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ আইয়ূব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় ছিনতাই হয়ে গেছে। এদেশের সেনাবাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে রক্ত আর ইজ্জতের বিনিময়ে বিজয় অর্জন করলেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ করানো হলো।

বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ভারতের প্রতিভূ সরকার। এ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ভারতের আগ্রাসনের শিকার।শেখ হাসিনাকে আধিপত্যবাদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

কর্ণেল (অব.) আলী আহমেদ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আইয়ূব খানের আমলেও রাজনীতিকদের রিমান্ডে নেয়া হয়নি, অথচ বর্তমান সরকারের আমলে তা হচ্ছে। ২০১৩ সালে এসে বিজয় দিবস তার তাৎপর্য হারিয়ে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান যে রকম হওয়ার কথ্ াছিল এবার সেভাবে আনন্দ নিয়ে পালন করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়েছি, মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারিয়েছে। ইসলামাবাদের দাসত্ব থেকে দিল্লীর দাসত্ব মেনে নেব না- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ