Home / জাতীয় / সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী

সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী

১৮ দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশ থেকে ঢাকা বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করেছে। গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধী দল বিএনপি ও জোট দলগুলোর ২৯ ডিসেম্বরের গণজমায়েত ঠেকাতে ঢাকাগামী বাস ও লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে ঢাকামুখী সবধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী।

জানা গেছে, দশম জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ২৯ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঠেকাতেই সরকারের নির্দেশেই পরিবহন মালিকরা যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে পরিবহন মালিকরা সরকারের নির্দেশের কথা স্বীকার করেননি। তারা জানিয়েছেন, নাশকতার আশংকায় নিজেরাই বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

এরই মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বেশিরভাগ জেলার বাসগুলোর ঢাকা যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-ঢাকা সড়কের সব যান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সব লঞ্চের যাত্রাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যান্য জেলার বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা না হলেও সেসব জেলার সব বাসের ঢাকা যাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ঢাকার বাইরে কাজে গিয়ে আটকা পড়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ।

রাজশাহী
১৮দলীয় জোটের ডাকা রোববারের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরিবহণ মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। সন্ধ্যার পরের যেসব টিকিট বিক্রি হয়েছিলো তা ফেরত দেয়া হয়।

ঢাকা কোচ কাউন্টারের কর্মচারীরা জানান, শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন জানান, ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুধুমাত্র রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, রোববারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধের সদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস ট্রাক সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামি ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাগামি কোচ চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এভাবে কোনো কারণ ছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ করা ঠিক নয়। দুদিন আগেও প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল, পুলিশ প্রহরায় গাড়ি চলবে। আজ এলো বন্ধের নির্দেশ। নির্দেশ না মেনেও আমাদের উপায় নেই।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক ও পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, পরিবহণ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে গাড়ি চলাচল কিংবা বন্ধ রাখার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তারপরও ঢাকাগামি কোচ চলাচল বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট মালিকরা। সাংগঠনিকভাবে কাউকে নিষেধ করা হয়নি।

বরিশাল
বিরোধী দলের ঢাকা অভিযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে উৎকণ্ঠার মধ্যে বরিশাল থেকে ঢাকামুখী বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা।

শুক্রবার রাতে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোনো লঞ্চ ছাড়ছে না বলে জানিয়েছেন পারাবত লঞ্চ কোম্পানির সুপারভাইজার সেলিম আহমেদ।

তিনি বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখতে বলেছে। তাই রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে চারটি লঞ্চ যাত্রা করার কথা থাকলেও কোনো লঞ্চ ছাড়বে না।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে ঢাকার দিকে কোনো বাস ছাড়ছে না বলে জানিয়েছেন বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি আফতাব হোসেন ।

তিনি বলেন, নাশকতার আশংকায় মালিকপক্ষ নিজেরাই বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। হরতাল ও অবরোধের নামে বাস ও মানুষ পুড়িয়ে দেয়ায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর
ঢাকায় মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রংপুর থেকে ঢাকাগামী সব যাত্রীবাহী কোচ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাস মালিকরা।

রংপুর নগরীর কামারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে ঢাকাগামী কোচগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন মালিকরা। হাতে গোনা ২/৪টি কোচ সেখানে থাকলেও তা চলাচল করবে না বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে মাত্র দুটি যাত্রীবাহী কোচ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে রোববার রাত পর্যন্ত রংপুর থেকে কোনো গাড়ি ঢাকায় যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন কোম্পানির কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ওপর মহলের নির্দেশে তারা গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু জানান, সরকার চলমান আন্দোলনে ভীত হয়ে ঢাকাগামী গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিলেও যেকোনো মূল্যে নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে যোগ দেবেই।

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দূরপাল্লার জেলামুখী কোন বাসের টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। এছাড়া আগে বিক্রি করা শনিবারের অগ্রিম টিকিটগুলো শুক্রবার অনেককেই ফেরত দিতে দেখা গেছে।

যাত্রী থাকলে বাস ছাড়া হবে বলে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির নেতারা জানালেও অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাস ছাড়তে ‘মানা’ করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বাস কাউন্টারে শনিবারে ঢাকা ও দূরপাল্লার জেলার বাসের টিকিট চাইলে ‘নাশকতার আশংকায়’ ওইদিন কোন বাস ছাড়বে না বলে জানানো হয়।

ঢাকামুখী শনিবারের বাসের টিকিট চাইলে গ্রীনলাইন বাস সার্ভিসের দামপাড়া কাউন্টার থেকে জানানো হয়, শনি ও রোববারে কোন বাস ছাড়বে না।

কেন ছাড়বে না জানতে চাইলে কাউন্টারের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, মালিকের পক্ষ থেকে টিকিট বিক্রি করতে নিষেধ করেছে।

দামপাড়া ইউনিক কাউন্টারের কর্মীরাও জানান, শনিবারে কোন গাড়ি ছাড়বে না। কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, বুঝেনই তো, আমরা আর কি বলব?

ভোলা
রাজধানী ঢাকায় প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ‘গণতন্ত্রের জন্য ঢাকামুখী অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভোলা থেকে ঢাকা যাওয়ার যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি অভিযোগ করেছে দলীয় নেতা-কর্মীরা যাতে ঢাকার গণজমায়েতে যোগ দিতে না পারে সেজন্য সরকার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ভোলার খেয়াঘাটে (লঞ্চঘাট) ঢাকাগামী কোনো লঞ্চ দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ, তাই আজ থেকে ঢাকায় কোন লঞ্চ চলাচল করবে না। তবে, শুক্রবার সকালে ভোলা-ঢাকাগামী লঞ্চ ঢাকা থেকে ভোলায় এসেছে।

পাশে না থাকলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান খালেদার
এদিকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সব বাধা উপেক্ষা করে আগামী রোববার নয়াপল্টনে হাজির হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। কোনো কারণে তিনি পাশে থাকতে না পারলেও সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এক ভিডিওবার্তায় নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, গণজমায়েতে কোনো কারণে পাশে থাকতে না পারলেও আন্দোলন চালিয়ে যান। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। বহু রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র এনেছি আমরা, এদেশের গণতন্ত্র আমরাই রক্ষা করবো।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন প্রতিহত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ২৯ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে সারা দেশ থেকে জনগণকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র কোনো ধরণের সহিংসতা বা নাশকতা হলে তা প্রতিরোধের হুমকি দিয়েছেন সরকারি দলের নেতারা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ