Home / জাতীয় / ১৪৬ আসনের নির্বাচন কাজে ব্যস্ত কমিশন ও সরকার

১৪৬ আসনের নির্বাচন কাজে ব্যস্ত কমিশন ও সরকার

আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন নির্বাচিত হওয়ায় বাকী ১৪৬টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে তৎপর রয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে কাজ করছে নির্বাচনকালীন সরকার, প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। আজ মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী মালামাল রিটার্নিং অফিসে পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশন যৌথবাহিনীর তদারকিতে জেলা অফিসগুলোতে মালামাল পাঠাতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র প্রিয় ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সরকারি গুদাম ও নির্বাচন কমিশনের গুদামে রক্ষিত মালামাল পাঠানো শুরু হয়েছে। র‌্যাব-বিজিবি প্রত্যেক আসনে নির্বাচনী মালামাল পাঠানোর বিষয়টি তদারকি করছে।

এদিকে,নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা থেকে এমন আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে,আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় বা কাছাকাছি থানা অথবা বৈধ ডিলারের কাছে লাইসেন্স করা এসব অস্ত্র জমা দিতে হবে। আদেশে আরও বলা হয়, লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মালিকেরা ২৭ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতে পারবেন না। এ আদেশ লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনে রদবদল ও ছুটির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নেয়ার বিধান থাকায় প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনে রদবদলের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি রদবদল হচ্ছে জেলা পর্যায়ে ও পুলিশ প্রশাসনে। গতকাল সোমবার শুধু পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে ৬১৭ জনের পদোন্নতিপূর্বক পদায়নের অনুমতি চেয়ে কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়। এর মধ্যে শতাধিক এএসআইকে পদোন্নতি দিয়ে পদায়নের জন্য কমিশনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫শো জন কনস্টেবলকে এএসআই পদে পদোন্নতি দেয়ার অনুমোদন চেয়ে আরেকটি চিঠি কমিশনে পৌঁছেছে।এছাড়া বদলি করার আবেদন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। এরমধ্যে বেশিরভাগ চিঠির অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে,যেসব কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে আছেন তাদের রদবদলের ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছে কমিশন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১৫ দিন পর তাঁদেরকে বদলির জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমিশনে চিঠি দিয়েছেন। যে সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বদলির প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।

অপরদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সফল করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ও নানান উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সে লক্ষেই আজ মঙ্গলবার রাষ্টীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নির্বাচনকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচএম মাহমুদ আলী ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি এবং সরকারের অবস্থান অবহিত করেছেন । প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে। আজকের এই বৈঠকেও উপস্থিতি ছিলেন তিনি। বৈঠকটিতে জাপান, কোরিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউএনডিপির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সোমবারও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি অবহিত করেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ