Home / জাতীয় / বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি : হলফনামার তথ্য লুকানো ইসির ‘অশুভ তৎপরতা’

বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি : হলফনামার তথ্য লুকানো ইসির ‘অশুভ তৎপরতা’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য লুকানো এবং সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশন ‘অশুভ তৎপরতা’ দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশের নয়জন বিশিষ্ট নাগরিক।
নির্বাচন কমিশনকে অনতিবিলম্বে এ ধরনের আত্মঘাতী ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি প্রতিরোধক তৎপরতা বন্ধের আহবান জানান তারা।
মঙ্গলবার বিকেলে এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়ার সংবাদ প্রকাশ যখন গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে জনমনে বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ঠিক তখনই প্রভাবশালী মহলের দাবিতে প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য লুকানো এবং প্রকাশ বন্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের অশুভ তৎপরতার সংবাদে আমরা বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন।

তারা বলেন, এটি সুস্পষ্ট যে, গত পাঁচ বছরে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা এই ব্যাপক সম্পদের মালিক হয়। তাদের এ ব্যাপক সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় তা সম্পূর্ণ বেআইনি ও সংবিধানের ২০ (২) ধারা অনুযায়ী অসাংবিধানিক।

একই সঙ্গে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের ফলে যেভাবে তারা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাতেই এরূপ সম্পদ আহরণের বৈধতাকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তারা বলেন, হলফনামার তথ্য গোপনীয় দলিল বলে বিশেষমহল থেকে যে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে তা উচ্চ আদালত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর সঙ্গে কেবল সাংঘর্ষিক তাই নয়, বরং প্রার্থীদের আট ধরনের তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত করার ব্যাপারে হাইকোর্টের রায় ও নির্দেশনার পরিপন্থী হওয়ায় তা আদালত অবমাননারও শামিল।
অন্যদিকে হলফনামার তথ্যকে আয়কর বিবরণীর সঙ্গে তুলনার প্রয়াসও যুক্তিযুক্ত নয়।

তারা আরও বলেন, আইনের অপব্যাখ্যা ও ফাঁক-ফোকর দিয়ে যদি প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ বন্ধ করা হয় তবে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু যে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে তাই নয়, বরং প্রভাবশালী মহলের কাছে নতি স্বীকার করে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারীর দোষে কমিশনকে দোষী হতে হবে।

বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে আইন-কানুন পরীক্ষার নামে অশুভ তৎপরতা অনতিবিলম্বে বন্ধ করে প্রার্থীদের সম্পর্কে আইনসম্মতভাবে জনগণের জানার অধিকার হরণ করার মতো অগণতান্ত্রিক আচরণ থেকে দূরে থাকার আহবান জানানো হয়।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের এ ধরেনের কার্যক্রম তথ্য অধিকার আইন,২০০৯ এর সঙ্গে সংঘর্ষিক হওয়ায় অনতিবিলম্বে তা থেকে সরে আসারও আহ্বান জানানো হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, নিজেরা করি-এর সমন্বয়ক খুশী কবীর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ- সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাষ্ট) এর অনারারী নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস্ বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, প্রিপ ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক এরোমা দত্ত এবং টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য দেখা যাচ্ছে না।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ