Home / রাজনীতি / নির্বাচনী মাঠ গরমে ১৪ দলের সমাবেশ

নির্বাচনী মাঠ গরমে ১৪ দলের সমাবেশ

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ না নিলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ। নির্বাচন সন্নিকটে হলেও এখনও সাধারণ মানুষদের মাঝে কোনো নির্বাচনী আমেজ নেই। আর নির্বাচনী আমেজ ফেরাতেই আগামীকাল ২৪ ডিসেম্বর সমাবেশ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। মঙ্গলবার বেলা তিনটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এ সমাবেশ হবে।

সমাবেশ সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ সফল করতে ঢাকা ও আশপাশের পাঁচ জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠকও করেছেন শীর্ষ নেতারা।

বৈঠকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, টাঙ্গাইল ও মুন্সিগঞ্জের নেতাদের সমাবেশ সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে যে কোনো মূলে নির্বাচন সফলের কথা বলা হয়। আর এজন্য সাধারণ মানুষদের মাঝে নির্বাচনী উৎসাহ-উদ্দীপনা ফেরাতে সমাবেশে লোকে-লোকারণ্য করতে ছয় জেলার নেতা, কর্মী, সমর্থকদের উপস্থিত করতে বলা হয়েছে।

বৈঠকের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ৫ জানুয়ারিতেই নির্বাচন অবশ্যই হবে। বিশ্বের সব দেশেই ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচন হয়। আমাদের দেশেও হবে।
এছাড়া সমাবেশ সফলের জন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অবশ্য একাধিক জেলায় ইতোমধ্যে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা হচ্ছে বলে দেশে ও দেশের বাইরে সমালোচনা হলেও সেদিকে কান দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচন ‍সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হবে না এবং দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না বলে জানিয়েছে।

আবার পত্র-পত্রিকায় নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিব্রত প্রধানমন্ত্রী থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আর তাই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে প্রার্থীদের হলফনামার কপি নামিয়ে ফেলার অনুরোধ করেছে দলটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে এ অনুরোধ করেন।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার সূত্র ধরে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গত পাঁচ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। যা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার গণমাধ্যমকে জানান, আমরা হলফনামা সবার কাছে সরবরাহ না করতে অনুরোধ করেছি।

এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তার তার দলকে নিয়েও চলছে নির্বাচনী নাটক। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা সর্বদলীয় সরকার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। ডাকযোগে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে এমনটা জানানো হলেও মাসখানেক সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু তা এখনও পৌঁছায়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা ও এরশাদ বলছেন, নির্বাচনে যাবে না দল। অন্যদিকে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের টানা অবরোধ কর্মসূচিতে সারাদেশের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে প্রায়। অনেক জেলায় ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। সহিংসতায় সারাদেশে মারা গেছেন শতাধিক।

এসব কারণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন সারাদেশের মানুষ। এ নিয়ে বড় ধরণের সংঘাত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ত্বাধীন ১৪ দল আগামীকাল ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সমাবেশ থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচনী আমেজ ও পরিবেশের জানান দিতে চায় আওয়ামী লীগ।

সমাবেশ থেকে আরও কর্মসূচি আসতে পারে বলে জানা গেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। সব ধরণের নাশকতা প্রতিহতের ঘোষণাও দেওয়া হবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উত্পাটন, হিন্দু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলা, লুটতরাজসহ পাকিস্তান পার্লামেন্টে গণহত্যাকারীদের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করার প্রতিবাদে এ সমাবেশ করা হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে বিরোধী দল বিএনপি আন্দোলন করে আসছে এবং নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে এরই মধ্যে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ