Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / ৫০ কোটি ডলারের ব্যবসা চলে গেছে ভারতে
৫০ কোটি ডলারের ব্যবসা চলে গেছে ভারতে

৫০ কোটি ডলারের ব্যবসা চলে গেছে ভারতে

মনিটর প্রকাশিত ‘২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের দক্ষিণ এশিয়া আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক খাতের ৫০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ চলে গেছে ভারতে। চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বরে বাংলাদেশ এ পরিমাণ ক্রয়াদেশ হারানোর মূল কারণ রাজনৈতিক সহিংসতা। পাশাপাশি কাজ করেছে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ। এতে সহায়কের ভূমিকা পালন করেছে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দরপতন।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্সের গবেষণামূলক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মনিটর তিন মাস অন্তর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসা-সংক্রান্ত প্রক্ষেপণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে ঝুঁকিমুক্তির মানসিকতায় নতুন সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টিপাত শুরু করেছেন পোশাক খাতের ক্রেতারা। ক্রয়াদেশ সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের দিকেই ঝুঁকছেন বেশির ভাগ ক্রেতা। আবার অনেকেই মনোযোগী হচ্ছেন পাকিস্তান ও মিয়ানমারের দিকে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপীয় অঞ্চল এরই মধ্যে পাকিস্তানকে বাণিজ্যিক সুবিধা (জিএসপি) দিয়েছে। ভারতকেও এ সুবিধা দেয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।
ডিসেম্বরে প্রকাশিত ভারতের অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (এইপিসি) তথ্যানুযায়ী, অক্টোবরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয়ের বিবেচনায় রফতানি প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক রফতানিতে দেশটির আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ; যার পরিমাণ ৮২৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
এইপিসির বার্ষিক রফতানি পুরস্কার ২০১৩-এর অনুষ্ঠানে ভারতের বস্ত্রমন্ত্রী ড. এসকে রাও সম্প্রতি বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে রফতানি আয় ৬০ বিলিয়ন করার প্রত্যাশা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্য ১৭ বিলিয়ন ডলার। আগামী অর্থবছর এর পরিমাণ আরো বেশি নির্ধারণ করা হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানি বৃদ্ধি সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
এদিকে গত তিন মাসে ৫০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ ভারতে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম বণিক বার্তাকে বলেন, এ সময়ে বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ কমেছে ৪০ শতাংশ। সামনের দিনগুলোয় তা আরো কমবে। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় রফতানি কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাক পণ্যের রফতানি কার্যক্রম। অবরোধ-হরতালে পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ সম্ভব হয়নি। আবার মজুরি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নেয়ায় অক্টোবর-নভেম্বরজুড়ে বেশির ভাগ কারখানা বন্ধ রাখা হয়। আর ডিসেম্বরের শুরু থেকেই চলছে রাজনৈতিক সহিংসতা। এর প্রভাব পড়েছে গ্রীষ্মের ক্রয়াদেশে।
ওয়ালমার্ট আগামী তিন মাস বাংলাদেশের জন্য রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাদের অনু এ বিষয়ে বলেন, ওয়ালমার্ট বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পোশাক কিনত, তা অন্য কোনো দেশ থেকে কিনবে। এক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। একই মত পোষণ করে আসরোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিকেএমইএর পরিচালক আসাদুল ইসলাম জানান, ক্রয়াদেশ বাড়ার কারণেই গত তিন মাসে ভারতে তৈরি পোশাক প্রস্তুতের যন্ত্রাংশ আমদানি বেড়েছে।
মনিটর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, নির্বাচন ঘিরে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলমান। সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ফলে নির্বাচন ও সহিংস রাজনীতি সামনের প্রান্তিকে সার্বিক পরিস্থিতিকে আরো খারাপ দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কর্মপরিবেশে নিরাপত্তাহীনতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ সক্ষমতার সদ্ব্যবহার করতে পারছে না। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন অব্যাহত রয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ