Home / রাজনীতি / সারাদেশে ৮৩ ঘণ্টা অবরোধের তৃতীয় দিন চলছে

সারাদেশে ৮৩ ঘণ্টা অবরোধের তৃতীয় দিন চলছে

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও দলের আটক নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৮৩ ঘণ্টার অবরোধের তৃতীয় দিন চলছে । শনিবার ভোর ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে। সারাদেশে রাজপথ, নৌপথ ও রেলপথে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো অবরোধ কর্মসূচী পালন করতে যাচ্ছে দলটি।

অবরোধের তৃতীয় দিন সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর পরিবেশ রয়েছে অনেকটাই শান্ত। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তায় যানবাহনের চলাচলও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ঝিনাইদহে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে ছয়টি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ বেশ কিছু জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ-গাড়ি ভাঙচুর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত পেকেটিং করেছে অবরোধ সমর্থকরা।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কবিরপুর মোড়ে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৯টার দিকে অবরোধ সমর্থিত বিএনপিকর্মীরা জেলার শৈলকুপা উপজেলার কবিরপুর মোড়ে মিছিল বের করে। এসময় তারা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে ছয়টি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। রোববার দিবাগত রাতে সয়দাবাদ-এনায়েতপুর সড়কের সয়দাবাদ মোড়ে দুটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধকারীরা। এদিকে, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ভুইয়াগাঁতী ও সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকায় আরো চারটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু যানবাহনে ভাঙচুর করা হয়।

চট্টগ্রাম
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চলছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দলের ডাকা অবরোধের তৃতীয় দিন ও নগর ছাত্রদলের ডাকা হরতাল। অবরোধের মধ্যে নগরী ও জেলায় যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক। তবে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ আছে। অবরোধের মধ্যে হরতালের সমর্থনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রোবভার গভীর রাতে কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। এছাড়া সোমবার সকাল পর্যন্ত নগরী কিংবা জেলায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বগুড়া
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও সোমবার সকাল ১০টার দিকে বগুড়া সদরে বাস ডিপো থেকে পুলিশি প্রহরায় বের হওয়ার সময় বিআরটিসির দুটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ও ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন। বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক সংবাদমাধ্যমের কাছে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গাজীপুর
৮৩ ঘণ্টা অবরোধের তৃতীয় দিনে গাজীপুরের বিভিন্ন রুটে যান চলাচল আগের দুই দিনের তুলনায় বেশ বেড়েছে। পুলিশি প্রহরায় বিআরটিসিসহ দূরপাল্লার বাস যাতায়াত শুরু করেছে।

এদিকে, নাশকতার অভিযোগে সারা জেলা থেকে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সিলেট
সোমবার সকালে সিলেটের দর্শন দেউড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এছাড়া তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন ও ১০-১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ধাওয়া দিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ রাস্তায় জ্বলতে থাকা টায়ার সরিয়ে নিলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এছাড়া শেষ খবর পওয়া পর্যন্ত দেশের কোথাও বড়ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মহাসড়কে জননিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে যান চলাচল নিশ্চিত করতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে টহল জোরদার করেছে সেনাবাহিনী।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের যানবাহন, সংবাদপত্র ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপাসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের এ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ২৬ নভেম্বর থেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। এর আগে চার দফা অবরোধ করেছে তারা। প্রথম দফায় ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৭১ ঘণ্টা, এরপর ৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩১ ঘণ্টা, তৃতীয় দফায় ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ঘণ্টা এবং সর্বশেষ ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ ডাকা হয়। ২৬ নভেম্বর থেকে সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক লোক নিহত হয়েছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ