Home / নির্বাচন / সেনা মোতায়েন নিয়ে ধূম্রজাল

সেনা মোতায়েন নিয়ে ধূম্রজাল

সেনাবাহিনী নেমেছে। সেনাবাহিনী নামেনি! এ নিয়ে সারাদেশে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী নামানোর কথা বলেছেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের এক মন্ত্রী গতকাল রবিবার দেশবাসীকে অবহিত করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। এই মন্ত্রীর ভাষায়, সেনাবাহিনীর এসব সদস্যরা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় দায়িত্বও পালন করছেন। এদিকে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে সেনাবাহিনীর অবস্থান এবং মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের সচিত্র ছবিসহ প্রতিবেদনও গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে করে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে সেনাবাহিনী কি স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য নামানো হয়েছে; নাকি এটি শীতকালীন মহড়ার অংশ?
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার আইএসপিআর (আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর) থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, সেনাসদস্যরা শীতকালীন প্রশিক্ষণ মহড়ায় নেমেছেন। কিন্ত গত দু’দিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং গতকাল বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এর দেয়া বক্তব্য আইএসপিআর এর বিবৃতিকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ করে তুলেছে। এ নিয়ে গতকাল আইএসপিআর’র পরিচালক শাহীনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৃহস্পতিবার দেয়া আইএসপিআর এর বিবৃতির পুনরাবৃত্তি করেন।
গতকাল গুলিস্তান খদ্দর মার্কেটের সামনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর এসব সদস্যরা দায়িত্বও পালন করছে। বিএনপি সেনাবাহিনীকে কটাক্ষ করে কথা বলছে অভিযোগ করে হাছান মাহমুদ বলেন, আমি আপনাদেরকে (বিএনপি) অনুরোধ করব সেনাবাহিনীকে কটাক্ষ করে কথা বলবেন না। দয়া করে সেনাবাহিনীকে বিব্রত করা থেকে দূরে থাকুন।
অন্যদিকে, গণমাধ্যমের খবর হচ্ছে-নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালনের আগে সেনাসদস্যদের দেশের কয়েকটি মহাসড়কে টহল দিতে দেখা গেছে। তাঁরা দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন এবং মহাসড়কে অবস্থান নেন। সেনাসদস্যরা কাঁচপুর সেতুর আগে শিমরাইল, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকা এবং মৌচাক ও সানারপাড় এলাকার রাস্তায় টহল দিয়েছেন। এ সময় তাঁরা সেখানকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, মহাসড়কে সেনাসদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। মহাসড়কের পাশে তাঁদের একটি ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে তাঁরা অবস্থান করছেন। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোড়ে এবং আদর্শ সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় সেনাসদস্যরা টহল দিয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন যাতে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে, সে ব্যাপারে নিরাপত্তা দিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেনাসদস্যরা দুটি ব্যস্ততম মহাসড়ক ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যানবাহন চলাচল এবং যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে সহায়তা করবেন। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহনেওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, সেনাসদস্যরা তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছেন, কোথায় বেশি যানবাহন চলে, কোথায় তাঁরা অবস্থান করবেন। এ ব্যাপারে তাঁদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে গতকাল একটি অনলাইন গণমাধ্যম আরটিএনএন-এ প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধের দ্বিতীয় দিন রবিবারও সেনা টহল অব্যাহত ছিল। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে-উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দরা, বাড়ইপাড়া, খাড়াজোড়া, সফিপুর, মৌচাক এলাকায় সেনা টহল অব্যাহত থাকায় দূরপাল্লার গাড়িসহ স্থানীয় সকল প্রকার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলছে। সকালে দু-একটা যাত্রীবাহী গাড়িতে ঢিল ছোড়া ছাড়া কোনো প্রকার নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। সেনা টহলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ করা নজরদারিতে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে জনসাধারণ। রাস্তায় সেনাবাহিনীর টহল ও পুলিশি নজরদারির ওপর নির্ভর করে চালকরা রাস্তায় নেমেছে।
সেনা মোতায়েন নিয়ে গত শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ দিনের জন্য সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেনাবাহিনী নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কেন মাঠে নামানো হয়েছে তা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এই বিভ্রান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আইএসপিআর এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
ইনকিলাব প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ থেকে জানা যায়-সাতক্ষীরা, যশোর, বরিশাল, কুষ্টিয়া ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফেনী, লক্ষীপুর এবং চট্টগ্রামের সীতাকু- ও পটিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2013/12/23/150328.php#sthash.a4CVJDsO.x6bz6oOz.dpuf

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ