Home / নির্বাচন / সিলেট হাইওয়েতে সেনা টহল

সিলেট হাইওয়েতে সেনা টহল

সিলেটের হাইওয়েতে সেনাবাহিনী টহল শুরু করেছে। শনিবার ভোররাত থেকে সেনাসদস্যরা সিলেট শহরতলির চণ্ডিপুল থেকে পুটিমারা বাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় টহল চালাচ্ছে। এদিকে সেনাবাহিনী টহলের খবরে সিলেটের হাইওয়েতে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা। শনিবার তেমন যানবাহন না চললেও গতকাল থেকে জেলার ভেতরে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে প্রাইভেট ও হালকা যানবাহন চলতে শুরু করেছে। একই অবস্থা সিলেট নগরীতেও। সকাল থেকে নগরীর অবস্থা ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। সকালের দিকে অবরোধের সমর্থনে নগরীর কদমতলী সড়কে বিএনপিসহ ১৮ দলের কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এর বাইরে আর তাদের কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি রঞ্জন সামন্ত গতকাল সেনা টহলের কথা স্বীকার করে বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাইওয়েতে টহল শুরু করেছেন। তারা সিলেট শহরতলির চণ্ডিপুল থেকে হবিগঞ্জের পুটিমারা এলাকা পর্যন্ত টহল অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, টানা অবরোধে হাইওয়েতে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে তারা টহল দিচ্ছেন। এদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মোহাম্মদ আইয়ূব জানিয়েছেন, সিলেট নগরীতে এখনও সেনা টহল শুরু হয়নি। তবে, পুলিশের সঙ্গে বিজিবির সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। গতকাল সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হাইওয়ে এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে। জানা গেছে, সেনাসদস্যরা হাইওয়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে ওসমানীনগর থানার তাজপুরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়েছেন। এ ক্যাম্প থেকে একজন লে. কর্নেল পদমর্যাদার অফিসারের মাধ্যমে টহল কাজের তদারক করা হচ্ছে। সিলেটের জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে এখনও সেনা মোতায়েন হয়নি। সিলেট শহরতলিতে কিছু শীতকালীন মহড়ার জন্য নগরীতে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী যাতায়াত করছে। এদিকে, সেনা টহলের খবরে গতকাল সিলেটে সিলেট-ঢাকা হাইওয়ে রুটে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সিলেট-শেরপুর ও সিলেট-নবীগঞ্জ, সিলেট-বিশ্বনাথ ও সিলেট-বালাগঞ্জ রুটে প্রাইভেটসহ হালকা যানবাহন চলাচল করা শুরু করেছে। রাতে পণ্যবোঝাই বেশ কিছু ট্রাকও এসে ঢুকেছে সিলেটে। তবে, দিনের বেলা পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়নি।
বাড়তি নিরাপত্তা: এদিকে, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চলছে বিজয় দিবস কাপ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। সিলেটে নবনির্মিত বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলতে এসেছেন, মুশফিক, শাকিব, তামিম ও মাশরাফিরা। গতকাল থেকে এ খেলা শুরু হয়েছে। এ কারণে খেলায় যাতে রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে সে কারণে স্টেডিয়াম ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের চলাচলের স্থানগুলোতেও নিরাপত্তা প্রচুর। এ কারণে শনিবার সিলেটে শিবিরের ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গুলির ঘটনা ঘটলেও রোববার নগর এলাকা একেবারেই ছিল শান্ত। সকাল থেকে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের জোরদার থাকায় নগরীতে ভাঙচুর কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মোহাম্মদ আইয়ূব জানিয়েছেন, খেলা চলাকালীন ও এর বাইরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্টেডিয়াম এলাকায় তিন স্থরের নিরাপত্তা রয়েছে। পুলিশ মনে করলে আরও নিরাপত্তা বাড়াবে বলে জানান তিনি। এদিকে, নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট বিসিবিও। সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলও জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম উৎসবের রঙ্গে মেতেছে। এখানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোন প্রভাবই পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ