Home / জাতীয় / টনক নড়েছে আওয়ামী লীগের

টনক নড়েছে আওয়ামী লীগের

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশের পর টনক নড়েছে আওয়ামী লীগের। হলফনামার কপি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে ফেলতে ইসিকে অনুরোধ করেছে দলটি।

রোববার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে এ অনুরোধ করেন।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার সূত্র ধরে গত ক’দিনে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতারসহ অনেকের অনিয়ম-দুর্নীতির খতিয়ানসহ ও গত পাঁচ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় এসব নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র বলেন, মহীউদ্দীন আলমগীর সিইসির কাছে অভিযোগ করেছেন, এই হলফনামার কপি সকলের হাতে চলে যাওয়ায় গণমাধ্যমগুলো প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করছে।যা থেকে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। এটা সরবরাহ করা কমিশনের উচিত হয় নি।

অবশ্য এ বিষয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং সিইসি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

তবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমরা হলফনামা সবার কাছে সরবরাহ না করতে অনুরোধ করেছি।

তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও নির্বাচনকালীন সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সবার হলফনামা এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পত্রিকা অফিসগুলোতে চলে গেছে। একটি প্রকাশিত বিষয় গোপন রাখতে বলা হবে কেন?

‘শোনা কথায় কান দিতে নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হলফনামা প্রকাশ না করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপও করা হয় নি। আমরা এ ধরনের কথা চিন্তাও করতে পারি না।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত ক’দিনে গণমাধ্যমে সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত-প্রচারিত হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় আছে আওয়ামী লীগ। এ পরিস্থিতি সামাল দিতেই দলটি ইসিকে এ অনুরোধ করেছে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, দলটির এ ধরনের দাবি রক্ষার কোনো সুযোগ ইসির নেই। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হলফনামা প্রকাশ ইসির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ১২ (৩ বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে আটটি তথ্য ও কোনো কোনো তথ্যের সপক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাবলী ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এতে আরো বলা আছে, প্রার্থীদের কাছ থেকে হলফনামার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যাদি ভোটারদের মধ্যে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। যাতে ভোটাররা এসব তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্ধারিত হলফনামার মাধ্যমে দাখিলকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রচার করতে হবে।

কমিশন সূত্র জানায়, এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে হলফনামা প্রচারের জন্য পরিপত্র জারি করেছে ইসি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ