Home / জাতীয় / মুড়ি খেয়ে গলা কাটলো ঘাতকরা
মুড়ি খেয়ে গলা কাটলো ঘাতকরা

মুড়ি খেয়ে গলা কাটলো ঘাতকরা

রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডের জজ গলির ৬৪/৬ নং বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে শনিবার সন্ধ্যায় হত্যার শিকার হন গৃহকর্তা লুৎফরসহ ছয়জন। মুখে টেপ পেঁচিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে জবাই করা হয় তাদের।

এর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ফ্ল্যাটের দু’টি কক্ষে পড়ে আছে ছয়টি লাশ। চারদিকে ছোপ ছোপ রক্ত।

হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কথা হয় পাশের বাড়ির বাসিন্দা শাহজামানের সঙ্গে। তিনি জানান, সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের আগে ৮ যুবককে ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখেন তিনি। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান।

তাদের মধ্যে ছয়জন প্যান্ট শার্ট পরিহিত, একজন ট্রাউজার আর জ্যাকেট এবং অপরজন পাঞ্জাবি পরিহিত ছিলো বলে জানান তিনি।

কথা হয় ঘটনার সাক্ষী ওই পরিবারের এক মহিলার সঙ্গে। (ঘটনার পর সন্ত্রস্ত ও অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ থাকায় তার নাম ও পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।)।

তিনি জানান, ওই আটজন নামাজ পড়তে চাইলে বাড়ির ড্রইংরুমে তাদের একটি চাদর পেতে দেওয়া হয়। ওই একই চাদরে নামাজ পড়েন নিহত ৬জনও।

এরপর তাদের মুড়ি খেতে দেওয়া হয়। মহিলা জানান, মুড়ি খাওয়ার পরপরই প্রথমে নিহত ছয়জনকে জাপটে ধরেন ছয় যুবক।

বাকি দুইজন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাড়ির মহিলাদের একটি কক্ষে প্রবেশ করিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।

এরপর এক কক্ষে চারজনকে এবং অপর কক্ষে দুইজনকে মুখে স্কচ টেপ লাগিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

ওই বাড়িতে বেডরুম মোট তিনটি। নিহত গৃহকর্তা লুৎফর রহমানের দুই পুত্র। বড় ছেলে মুজিবুর রহমান মনিরও এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। নিহত মনির সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা বলে জানান ওই মহিলা।

হত্যাকারীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার ও দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন অবরুদ্ধ মহিলারা। তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। ততক্ষণে ঘাতকরা পালিয়ে যায়।

মহিলা আরও জানান, ঘাতকদের কাছে পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা জানায় তারা ডাকাত, ডাকাতি করতে এসেছে।

এদিকে এ ঘটনায় ওই বাড়ির কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওয়ারী ডিভিশনের এডিসি (অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার) মেহেদী হাসান জানান, পারিপার্শ্বিকতা দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

জানা গেছে, লুৎফর রহমান ওই এলাকায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করতেন। এলাকায় তিনি ধার্মিক ও পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আশপাশের ৭ জনকে ‍আটক করে ওয়ারী থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ