Home / আন্তর্জাতিক / নির্বাচনে জিতবে আ`লীগ, হারবে বাংলাদেশ : ইকোনমিস্ট

নির্বাচনে জিতবে আ`লীগ, হারবে বাংলাদেশ : ইকোনমিস্ট

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও হারবে বাংলাদেশ এমনটাই বলছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী `দি ইকোনমিস্ট` ম্যাগাজিন। বাংলাদেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাগাজিনটির এমন মূল্যায়ন।

ম্যাগাজিনটির অনলাইন সংস্করণে `দ্য ক্যাম্পেইন ট্রেইল_ দ্য রুলিং পার্টি উইল উইন বাংলাদেশ`স ইলেকশন, দ্য কান্ট্রি উইল লস` শীর্ষক প্রকাশিত নিবন্ধে এমনটাই বলা হয়েছে। ইকোনমিস্টের শনিবারের সংখ্যায় এটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

এতে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দল(বিএনপি) ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করবে। এর ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত। যদিও বৈধতার প্রশ্নটি ভিন্ন বিষয়। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতায় শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। সর্বশেষ নিহতের ঘটনা ঘটছে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর।
কাদের মোল্লাকে জনপ্রিয় তবে ত্রুটিপূর্ণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

শেখ হাসিনার অজনপ্রিয় সরকার দেশের ব্যাপক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি রাজপথে। তারা একের পর অবরোধ ডাকছে। এতে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আর বিএনপির প্রধান মিত্র জামায়াত সম্পূর্ণ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এতে বলা হয়, জামায়াতের সব নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে কৃতিত্ব দেওয়া যায় খুবই কম। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শেখ হাসিনাকে ফাঁসি কার্যকর না করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সমঝোতা তার (হাসিনা) স্টাইল নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে নিবন্ধে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধনী বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। আগামী নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অসুবিধার দিক হলো ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ আসনেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।

বিএনপি ও তাদের জোটের ১৭টি দল নির্বাচন বয়কট করেছে। নির্বাচন বয়কট করায় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হাসপাতালে বন্দি করে রাখা হয়েছে। জামায়াতের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতই একমাত্র বিদেশি শক্তি, যারা একদলীয় নির্বাচন সমর্থন করছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশে এরই মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট জোরদার হয়েছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে ভারতীয় পৃষ্ঠপোষকতা ভারতবিরোধীদের সুযোগ করে দিতে পারে।

ইকোনমিস্ট বলছে, এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীও হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয়। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে যখন একটি অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা দখল করে দুই বছর দেশ শাসন করেছিল। ওই সরকারের প্রতি সেনাবাহিনীর যে ধরনের সমর্থন ছিল, তা এবার নেই। এমনকি যেসব বিদেশি শক্তি তখনকার অভ্যুত্থানকে সমর্থন করেছিল, তারাও এবার সমর্থন দিতে অনিচ্ছুক। সুতরাং মাসজুড়েই চলতে পারে লড়াই।

এক জনমত জরিপ মতে, মাত্র ৩০ শতাংশ বাংলাদেশি চায় সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসুক। সেনাবাহিনী যদি তা করে তবু মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ‘কলহে লিপ্ত বেগমদ্বয়কে’ (খালেদা-হাসিনা) রাজনীতি থেকে নির্বাসনের পক্ষপাতী। দেশ চালাতে তাঁদের ছাড়া (বাংলাদেশের) চলবে না এমনটাই মনে হচ্ছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ