Home / আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশের রাজনীতি সংস্কারের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটের

বাংলাদেশের রাজনীতি সংস্কারের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটের

us-senateবাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধকে দায়ী করে রাজনীতিতে জরুরি ভিত্তিতে ও গুরুত্বের সঙ্গে সংস্কার প্রয়োজন বলে প্রস্তাব তুলেছে মার্কিন সিনেট। পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে এক জরুরি শুনানিতে বুধবার সিনেট কমিটিতে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৫ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন সিনেট পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজ। প্যানেলে ছিলেন মেরিল্যান্ডের মিলেনিয়াম করপোরেশনের মিস ডানা জে হাইড, আরিজোনার মার্ক ই লোপেজ ও মেরিল্যান্ডের কিথ এম হার্পার।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার স্বপন সাহা গণমাধ্যমকে জানান, তারা সিনেট কমিটির এই বৈঠকের বিষয়ে অবহিত। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানতে পারেননি।

সিনেটের শুনানিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের সমঝোতায় আসার যে পরামর্শ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা গুরুত্ব পায় বৈঠকে।

ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে বাংলাদেশ ছাড়াও মিসরে সহকারী সংস্কার আইন (ইজিপ্ট অ্যাসিসট্যান্স অ্যাক্ট), বিশ্ব এইডস দিবসের লক্ষ্য, ইরানে সংখ্যালঘু বাহাই সম্প্রদায়ের বিচার, সেখানে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন, বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকারের রাজপথে গণহত্যা ও বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন, সহিংসতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। শুনানি চলাকালে আরও ১৮ জন প্রভাবশালী ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সিনেটর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও তার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে, এমন মন্তব্য করে সিনেট কমিটিতে তোলা রিচার্ড ডারবিনের প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারের মেয়াদপূর্তির তিন মাস আগে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধান বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে ১৮ দলের বিরোধীদলীয় জোট চলতি বছর একের পর এক হরতাল-অবরোধ করে যাচ্ছে যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শুনানির পুর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসনের বিশেষ উপদেষ্টা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার এবং জাহিদ এফ সরদার সাদি ২ দফা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়ে অবহিত করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতিপুর্বে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্ট ম্যাসেজ দেয় যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নিশা দেশাইকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যস্থান ব্যাখ্যা করেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ