Home / জাতীয় / নির্বাচনে রেকর্ড, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন ১৫১ জন

নির্বাচনে রেকর্ড, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন ১৫১ জন

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ১৫১ জন প্রার্থী। আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ১৪৯ আসনে লড়াই হবে। শনিবার রাতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হচ্ছেন তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১২৮ জন, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ১৭ জন, জেপি’র (মঞ্জু) ১ জন, জাসদ’র ৩ জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় শুক্রবার বিকেল ৫ট‍ার পর থেকেই প্রার্থী-তালিকা চূড়ান্ত করতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। যেসব আসনে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী রয়েছেন তাদেরকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে কমিশন।

কমিশন কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশ থেকে তথ্য এসেছে তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হয়েছে প্রার্থী তালিকা।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহাজোটের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি,  টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন,  শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দীন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফজলে নূর তাপস, আ হ ম মোস্তফা কামাল, নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, আফম বাহাউদ্দীন (নাছিম), কাজী কেরামত আলী, শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, এইচ এন আশিকুর রহমান, নসরুল হামিদ বিপু, শেখ আফিল উদ্দীন, এনামুল হক, দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, সাভারের ডা. এনামুর রহমান, বেঙ্গল গ্রুপ ও আরটিভির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম প্রমুখ।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টার মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া হবে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার এখতিয়ার।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিদের নাম গণবিজ্ঞপ্তি করার পর তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

তবে এসব প্রার্থীদের গেজেট ৫ জানুয়ারি ভোটের পর একসঙ্গে প্রকাশ করা হতে পারে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই সময় ১১শ’ ৭ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ২০টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে।

বাছাইয়ের পর ৮৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়। বাতিল হয় ২৬০ জনের। এরপর ৭-৯ ডিসেম্বর পর‌্যন্ত ১৩৮টি আপিল আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ৪২ জনের আপিল মঞ্জুর করে ইসি।

ওই সময় কয়েকটি একক প্রার্থীর আসনে [সিলেট-১, গাজীপুর-২ ইত্যাদি] আপিল গৃহীত হওয়ায় প্রার্থী সংখ্যা ২ জনের বেশি হয়।

গত নয়টি সংসদ নির্বাচনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সংখ্যা। বহুল আলোচিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ জন বিএনপির প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এ পর্যন্ত যত নির্বাচন
বহুল আলোচিত ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপিসহ ৪১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১ হাজার ৯৮৭টি আবেদন জমা পড়লেও শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫০ জন প্রার্থী অংশ নেন। এরমধ্যে ৯৯৩ রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৫৭ জন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির ৪৯ জন সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৭৯টি আসন পায় তারা। ফ্রিডম পার্টি একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১০ জন নির্বাচিত হন। ১০টি আসনে নির্বাচন স্থগিত হয়।  ভোট পড়ে ২৬ শতাংশ। এরমধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ৭৭ শতাংশ।

সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম সংসদে ৩৮টি নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র মিলে ১ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এরমধ্যে স্বতন্ত্র ছিল ১৪১ জন। এ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকায় কোনো আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন নি কেউই। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ শতাংশ।

অবশ্য ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি বাতিল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অনেক দল মনোনয়নপত্র দাখিল করে। শেষমুহুর্তে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়। ওই একতরফা নির্বাচনের মুখেও ১৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা হয়।

অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৪ টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে [৪৮৬ জন] মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ২ হাজার ৫৬৩ জন।  এ নির্বাচনে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়ে।

এরমধ্যে ১ হাজার ৯৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যারমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ৪৮৪ জন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ছিলেন না কেউই।

সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৩ হাজার ৯৩ জন প্রার্থী আবেদন করেন। বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ৮১টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৯৩ জন প্রার্থী ও ২৮১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। নেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। ৭৫ শতাংশ ভোট পড়ে এ নির্বাচনে।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৭৫টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৩ হাজার ৮৫৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত না হলেও শেষ পর‌্যন্ত লড়েন ২ হাজার ৭৮৭ জন। ৫৫ শতাংশ ভোট পড়ে এ নির্বাচনে।

১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ১৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এসময় ৮টি দলের অংশ নিলেও প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১ হাহার ১৯২ জন। ভোট পড়েছিল ৫৫ শতাংশ।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৫৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১ হাজার ৯৮০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮৬ সালের ওই নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নিয়েছিল। ৫০ শতাংশ ভোট পড়ে।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ জন আওয়ামী লীগের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। এসময় ২৯টি দল ও স্বতন্ত্র মিলে ২ হাজার ৫৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট পড়েছিল ৫১ শতাংশ।

১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নেয়। এরমধ্যে ১২০ জন স্বতন্ত্র ও দলের প্রার্থী ছিল ১ হাজার ২০৯ জন। ভোট পড়ে ৫৪ শতাংশ।

দেশের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১১ সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ