Home / শীর্ষ সংবাদ / জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব রাজধানীতে গাড়ি বাড়ি দোকানে ভাঙচুর আগুন

জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব রাজধানীতে গাড়ি বাড়ি দোকানে ভাঙচুর আগুন

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে জুমার নামাজের পর পরই মিছিল বের করে তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা এ সময় আরামবাগ ও এজিবি কলোনি এলাকায় ১০টি গাড়ি ও কয়েকটি রিকশাভ্যান, রিকশা ও ফুটপাতের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। রামপুরা, ফকিরাপুল, মতিঝিল, পল্টন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। তবে শিবির কর্মীরাও গুলি ছুড়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। এসব ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ১৩ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুমার নামাজের পর ফকিরাপুল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কয়েক শ’ নেতাকর্মী মিছিল শুরু করে। আরামবাগ ও এজিবি কলোনি এলাকায় মিছিলকারীরা চারটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোটরসাইকেল, একটি কাভার্ড ভ্যান ও কয়েকটি রিকশা ভ্যান, রিকশা ও ফুটপাথের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মতিঝিলের এজিবি কলোনির কাঁচাবাজারের সামনে চারটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এরপর বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং রাস্তায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গুলিতে ১০ বছরের শিশু শান্ত, মামা ভাগ্নে হোটেলের মালিক আলী হোসেন (৪০), তার ভাগ্নে কিবরিয়া (১৮), রিকশাচালক নাজমুল, গার্মেন্টকর্মী শাহানাজ (৩০), ব্যবসায়ী আকিবার (২৭) আহত হন। এছাড়া মতিঝিলে শহীদুল ইসলাম (৩০), রোমান (২৫) ও শিবলী সাদিক (২২) নামে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে শিবির সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ।
অগ্নিদগ্ধ একটি প্রাইভেটকারের চালক মো. আলমগীর বলেন, তিনি শান্তিনগর থেকে আসছিলেন। এজিবি কলোনি এলাকায় আইডিয়াল স্কুলের কাছাকাছি আসার পর জামায়াত-শিবিরের ২-৩শ’ কর্মীর মিছিল দেখতে পান। মিছিল থেকে তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এমনকি তাকে গাড়িতে রেখেই তাতে আগুন দেওয়া হয়।
দুপুর পৌনে ২টার দিকে মালিবাগ রেললাইনের দিক থেকে একটি মিছিল নিয়ে রামপুরার দিকে যায় শিবিরের নেতাকর্মীরা। মিছিলকারীরা এ সময় মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান ও ছোট যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। তবে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভান। শিবিরের কর্মীরা কিউ ফার্মা নামে একটি ওষুধের দোকানের কাচ ভাঙচুর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। শিবির কর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অলিগলিতে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে ফরহাদ (৩০) নামে এক গার্মেন্টকর্মকর্তা আহত হন। এছাড়া শাপলা গার্মেন্টসের কর্মী আমেনা বেগম (২০) ও রিনা (২০) গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের গুলিতে রিনার চোখ নষ্ট হওয়ার পথে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শ্যামলীর চক্ষু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রামপুরা থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, পৌনে ২টার দিকে একদল শিবির কর্মী প্রেস লেখা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট গায়ে দিয়ে ও হেলমেট পরে আবুল হোটেলের সামনে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে তারা রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। তারা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ধাওয়া করে এবং ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আশরাফুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান বলেন, অভিনব কায়দায় এখানে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা হেলমেট পরে আক্রমণ চালিয়েছে। চৌধুরীপাড়ার ঘটনায় আরিফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নতুন অনেক হেলমেট উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা সকালের খবরকে জানান, দুপুরের পর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে চারটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসব ঘটনায় ৪৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয় এবং ৮০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার হয়। এছাড়া কমলাপুর আইসিডি ভবনের সামনে একটি গাড়িতে এবং খিলগাঁও চামেলীবাগ এলাকায় একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তারা।
জামায়াত-শিবির জড়িত নয় বলে দাবি : জামায়াত ও ছাত্রশিবির কর্মীরা নাশকতার এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছেন সংগঠন দুটির নেতারা। জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপাতেই সরকারের এজেন্টরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে তাদের দাবি। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, এসব ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। দেশের জনগণ যখন ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য অত্যন্ত কৌশলে সরকার তার এজেন্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাজায় সরকার বাধা দিয়েছে। অনেক জায়গায় হামলা করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা ও গুলিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নাটোর, মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত ও দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি গত দুই দিনে আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডারদের সন্ত্রাস, পুলিশের গুলিতে সারাদেশে মোট ১০ জন নিহত হয়েছে।
আরেক বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার বলেন, বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালে সাজানো রায়ে কাদের মোল্লাকে হত্যার বিরুদ্ধে সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণকে আড়াল করতে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাজা পড়তে বাধা দিয়ে পুলিশ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। জানাজা পড়তে বাধা দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ মিছিল করে চলে যায়।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ