Home / জাতীয় / হেফাজতের হরতাল স্থগিত

হেফাজতের হরতাল স্থগিত

১২ ও ১৩ ডিসেম্বর হেফাজতে ইসলামীর মহাসম্মেলন করার অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার চট্টগ্রামের হরতাল কর্মসূচি স্থগিত করেছে হেফাজতে ইসলাম।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেফাজতে ইসলামের আল্লামা শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে হরতাল স্থগিতের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দিন দিন দেশের জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা এতটাই নাজুক হয়ে পড়ছে যে, ঘরে-বাইরে কোথাও কারো নিরাপত্তা নেই। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনের কোন পরিবেশ দেশে নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিবর্ষণে প্রতিদিন হতাহতের ঘটনার উন্নতি হওয়াতো দূরের কথা, বরং বেড়েই চলেছে। হরতাল-অবরোধ ছাড়াও মানুষ ঘর থেকে বের হতে সাহস করছে না। দেশ ও জাতি এক গভীর সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। সমঝোতার নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মতভেদ নিরসনের কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি মানুষ গভীর উদ্বেগ ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতি পাত করছেন।”

হেফাজত আমীর আরো বলেন, “দেশ ও জাতির গভীর এই সংকটে আমি মনে করছি এখন গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার মত কোন পরিবেশ নেই। হেফাজতের রোববারের হরতাল কর্মসূচিতে নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ তৌহিদী জনতার জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। তাই রোববারের হরতাল কর্মসূচি আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে হরতাল স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত কোনভাবেই বিগত ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের ইসলামী মহাসম্মেলন না করতে দেওয়াকে মেনে নেওয়া নয়। বরং সরকারের অগণতান্ত্রিক ও মারমুখী আচরণের ভিন্ন রকম প্রতিবাদ বুঝতে হবে। দেশে যে এখন মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদ করার ন্যূনতম পরিবেশও নেই এবং সরকার কোন সুযোগই দিচ্ছে না, আমরা এটাই বুঝাতে চাচ্ছি।”

বিবৃতিতে হেফাজত আমীর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গনমানুষের মতামতকে উপলব্ধি করুন। দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর নিরপেক্ষ উদ্যোগ নিয়ে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করুন। বিরোধী জনমতকে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে তাদেরকে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ ও কথা বলতে দিন। তাদের দাবি-দাওয়া ও বক্তব্য মনযোগ দিয়ে শুনুন। কারণ, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদ করার অধিকারও যখন মানুষ হারিয়ে ফেলে, তখন সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না।”

হেফাজত আমীর আরো বলেন, “বর্তমানে দেশের অনেক স্থানেই ওয়াজ-মাহফিল, তাফসীর মাহফিল ও ইসলামী সম্মেলন করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ খেলাধুলা, নাচ-গান ও গণজাগরণ মঞ্চের গুটি কয়েকের রাস্তা বন্ধে সরকারি কোন বাঁধা আসে না। জনসাধারণ এটাকে সরকারের ইসলাম বিদ্বেষী নীতি হিসেবেই ধরে নিচ্ছে। ইসলামের উপর এমন আঘাত মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে ইসলামের উপর আঘাত চলতে থাকলে তৌহিদী জনতার দানাবাঁধা ক্ষোভ এক সময় বিস্ফোরিত হয়ে পড়বে। যা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য দুরূহ হয়ে পড়বে। সরকার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ুক, আমরা এটা চাই না।”

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ