Home / জাতীয় / ফাঁসি রাতেই

ফাঁসি রাতেই

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি বৃহস্পতিবার রাতেই হয়ে যেতে পারে। কারা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও কারা সূত্রে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে ফাঁসি কার্যকরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গেছে। ফাঁসির মঞ্চও প্রস্তুত। রাত ৯টায় ডিআইজি প্রিজন (ঢাকা রেঞ্জ) গোলাম হায়দার, অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল ইফতেখার আলম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

প্রায় একই সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইউসুফ হারুন ও কেন্দ্রীয় কারামসজিদের ইমাম আব্দুল হাই কারাগারে মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোয়া ৯টার দিকে সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মোল্লা ভেতরে গেছেন।

রীতি অনুযায়ী, ফাঁসি কার্যকরের আগে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক খাবার দেয়া হয়। শেষ মুহূর্তে গিয়ে ইমাম তাকে নফল নামাজ এবং তওবা পড়ান।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলামেইলকে জানান, ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত, নিয়ম অনুযায়ী যাদের থাকার কথা তারা সবাই উপস্থিত আছেন। ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে রাতেই।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীজুড়েও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। কারাগারের আশেপাশ থেকে লোকজন সরিয়ে দেয়া হয়েছে, আবাসিক এলাকায় লোকজনদের বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে, সব দোকানপাট বন্ধ।

উল্লেখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ডাদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন।

এরপর গত রোববার এ রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রায়ের কপি পাওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন এবং এ পরোয়ানার অনুলিপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়।

একদিন পর মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। কিন্তু সাড়ে ১০টার দিকে রায় কার্যকর পরের দিন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

যেভাবে কার্যকর করা হয় ফাঁসি
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে প্রথমেই তার রায়টি সংক্ষিপ্ত আকারে পড়ে শোনান জেল সুপার। দেশে সাধারণত রাত ১২টার পরেই আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। আসামিকে ফাঁসি দেয়ার আগে গোসল করিয়ে একজন মাওলানার মাধ্যমে তওবা পড়িয়ে নেন কারা কর্তৃপক্ষ।

এসময় আসামির কাছ থেকে তার শেষ কোনো ইচ্ছা থাকলে আইন অনুযায়ী সম্ভব হলে তা পূরণ করে কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার আগে আসামির মাথায় পরানো হয় একটি কালো রঙয়ের টুপি। এই টুপিটিকে বলা হয় ‘জমটুপি’।

ফাঁসির মঞ্চে তোলার আগে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দুই হাত পেছনের দিকে বাঁধা হয়। এসময় ফাঁসির মঞ্চের সামনে উপস্থিত থাকেন কারা কর্তৃপক্ষ, সিভিল সার্জন, একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্টরা।

ফাঁসির মঞ্চে প্রস্তুত থাকেন একজন জল্লাদ। মঞ্চে তোলার পর আসামির দুই পা বাঁধা হয়। গলায় পরানো হয় ফাঁসির দড়ি । তবে তা হতে হবে যেমনি মজবুত তেমনি পিচ্ছিল।

ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে থাকে একটি রুমাল। রুমালটি হাত থেকে নিচে ফেলে দেয়ার সাথে সাথেই জল্লাদ ফাঁসির মঞ্চের লিভারে টান দেন সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসির মঞ্চে আসামির পায়ের নিচের তক্তাটি সরে যায়। তখন আসামি মাটি থেকে ২-৩ ফুট শূন্যে ঝুলে থাকেন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই আসামির ঘাড়ের হাড় ভেঙে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে কখনও পুরো মাথাটাই ছিড়ে যায়।

ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর পর আরও ১০-২০ মিনিট দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয় আসামিকে। ফাঁসির দড়ি থেকে নামানোর পর সব শেষে আসামির দুই পায়ের রগ কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে কারা কর্তৃপক্ষ। সবশেষে ভোরের দিকে আসামির মৃতদেহকে তার পরিবার পরিজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ