Home / রাজনীতি / জাতীয় পার্টি নিয়ে পর্দার অন্তরালে…

জাতীয় পার্টি নিয়ে পর্দার অন্তরালে…

দশম সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সরকার থেকে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রকাশ্যে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা প্রচেষ্টা ক্রমেই সফলতার দিকে এগোচ্ছে। সূত্র মতে, এরশাদকে ম্যানেজ করতে গতকালও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ভূমি ও ত্রাণমন্ত্রী আমির হোসেন আমু কথা বলেছেন জাপার দায়িত্বশীল এক নেতার সঙ্গে। আজ-কালের মধ্যেই নির্বাচনে থাকার প্রশ্নে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সবুজ সংকেত আসতে পারে বলে সরকার আশাবাদী। সূত্র মতে, নির্বাচনে থাকা না থাকার প্রশ্নে জাতীয় পার্টির অঘোষিত দাবির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রধানমন্ত্রী দলের সিনিয়র কয়েক নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন এরশাদকে ম্যানেজ করতে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের পাঁচ সিনিয়র নেতা মনে করছেন গত কয়েকদিনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী সমঝোতা এখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে। সূত্র মতে, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ছাড়াও পার্টির আরও অনেক প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে। এরা সবসময় এরশাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী এবং তার বিশ্বস্ত। নির্বাচনে অংশগ্রহণ চাইলেও এরশাদকে বেকায়দায় ফেলা কিংবা দল ভাঙার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তাদের নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তারা নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে জাপার পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। যাদের নির্বাচনী এলাকা নেই বা বিএনপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখেন তাদের একটি অংশ নির্বাচন বর্জন চান। জাপার একাধিক সূত্র মতে, বর্জনের ঘোষণা পরিহার করে বরং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে এরশাদ শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এরশাদের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের খবর নিশ্চিত করেছে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আমু, তোফায়েল ছাড়াও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ গত কয়েকদিন ধরে জাপার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে, নির্বাচন বর্জনের প্রশ্নে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এই মুহূর্তে খোদ নিজের দল সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের প্রশ্নে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে স্পষ্ট মতবিরোধ হওয়ায় পার্টির ঐক্য ধরে রাখা এখন এরশাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। এরশাদের ওপর প্রভাবশালী একটি দেশের কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। জাপার একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বর্জনের প্রশ্নে এরশাদ উভয় সংকটে। তবে শেষ মুহূর্তে এরশাদ কৌশল বদল করে হলেও জাপাকে নির্বাচনে রাখতেই নির্দেশ দেবেন। সেক্ষেত্রে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আপাতত বিদেশে অবস্থান করতে পারেন। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নবঞ্চিতরা নির্বাচন বর্জনে এরশাদকে উৎসাহ দিলেও জাপার মূলধারার নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগ নেতাদের দৌড়ঝাঁপ জাপার নির্বাচনে আসা ও এরশাদের সঙ্গে সমঝোতার আভাস দিলেও গতকালও এরশাদ কথা বলেছেন ভিন্ন সুরে। মিডিয়ার কাছে এরশাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় আমি অনড় অবস্থানে। পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের অধীনে জাপা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, আজীবন আমি পার্টির চেয়ারম্যান থাকব। সব দল না আসলে নির্বাচনে যাব না। জাপার মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশে নির্বাচনকালীন সরকার থেকে দলের মন্ত্রী জিএম কাদের, সালমা ইসলাম, মুজিবুল হক চুন্নু ও আমার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাই। গতকাল সরকারি ছুটি থাকায় ও প্রধানমন্ত্রী সময় না দেওয়ায় পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারিনি। তবে আজ ( রবিবার) জমা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অপেক্ষা করুন পদত্যাগের বদলে সমঝোতার খবরও পেতে পারেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ