Home / জাতীয় / মুক্তিযোদ্ধা মুক্তু মিঞা এখন ভিক্ষুক

মুক্তিযোদ্ধা মুক্তু মিঞা এখন ভিক্ষুক

পঞ্চগড়: ১৯৭১ সালে শত্রুর কাছে কিছুতেই হার মানেননি মুক্তু মিঞা। কখনো সম্মুখ আবার কখনো গেরিলা যুদ্ধ। মরণপণ সে লড়াই। শত্রুকে পরাজিত করে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর মুক্তু মিঞাদের দীর্ঘ নয় মাসের ত্যাগের ফসল এই স্বাধীন বাংলাদেশ, আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতা, লাল সবুজ খচিত একটি পতাকা।

বিনিময়ে কি পেয়েছেন তিনি? মহান মুক্তিযুদ্ধের এই সম্মুখ যোদ্ধা স্বাধীনতার ৪২ বছরে কি পেলেন, সে খবর রাখেনি কেউ। আর তাই মুক্তু মিঞার শেষ জীবনের সঙ্গী ভিক্ষার ঝুলি। পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মহাজারা পাড়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুক্তু মিঞার (৮৫) দিন কাটছে বিনা চিকিৎসায় অর্ধাহারে-অনাহারে। মৃত্যুর পর লাল সবুজ পতাকায় আচ্ছাদিত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে কি না তাও জানে না কেউ।

১৯৭১ এর অদম্য, অপরাজিত, জীবনবাজী রাখা এ সৈনিকের জীবনের গল্প বড়ই কষ্টকর ও বেদনাদায়ক। ’৭১ এর শুরুতে পঞ্চগড় ৬নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার মাহবুব আলম অমরখানার ভিতরগড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের গাইড হিসেবে কাজ করতেন মুক্তু মিঞা। রাজাকারদের গতিবিধি, পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান ও গতিবিধি জানাতে দীর্ঘ নয় মাস কাজ করেছেন তিনি।

স্বাধীন হলো বাংলাদেশ। পরিবার নিয়ে অভাবের সংসার মুক্তু মিয়ার। এক চিলতে ভিটে বাড়ি ছাড়া জায়গা-জমি নেই। নদীতে পাথর তুলে অথবা দিনমজুরী করে সংসার চালাতেন তিনি।

তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা চোরা বেড়ার ছনের ঘরের এক পাশে ছোট্ট একটা কুটরিতে মুক্তু মিঞার বসবাস। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনি। কাজকর্ম করতে না পেরে ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন।

প্রতিদিনের মতো ভিক্ষা করে বাড়ি ফিরেছেন মুক্তু মিয়া। বেড়ার ফাঁক দিয়ে হুহু করে বাতাস ঢুকছে। ছেড়া- ময়লা কাপড় চোপড়। মোটরসাইকেলের শব্দে বিছানা ছেড়ে উঠলেন। কিন্তু ভালোভাবে দাড়াতে পারলেন না। তার চোখ দিয়ে শুধু অনবরত পানি ঝরছে।

আক্ষেপ  করে মুক্তু মিঞা বলেন, স্বাধীনতার এই ৪২ বছরে তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। ’৭১ এ যারা ডাকাতি করেছে, অন্যের সম্পদ লুট করেছে, রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে ফুর্তি করেছে তারাই এখন নিজেদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন।

পাশের বাড়ির সহযোদ্ধা আব্দুল মান্নানসহ প্রতিবেশিরা জানান, স্ত্রী-সন্তান কেউ নেই বর্তমানে মুক্তু মিঞার। গত কয়েক বছর ধরে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালান। দূর সম্পর্কের আত্মীয়- স্বজনরা তাকে কিছু সহায়তা করেন। মুক্তু মিঞা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।

তারা আরও জানান, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছু করছে। তার জন্য কেউ কিছুই করছে না। কেউ খোঁজও নিতে আসে না।

পঞ্চগড় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এসএম লিয়াকত আলী বাংলানিউজকে জানান, মুক্তু মিঞা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। ইতোমধ্যে তার নামসহ জেলার ৮২ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এসব বিবেচনা হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা উপকৃত হবেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ