Home / জাতীয় / দ্য নিউজের প্রতিবেদন- আওয়ামী লীগ পরাজয় ঠেকাতে পারবে না

দ্য নিউজের প্রতিবেদন- আওয়ামী লীগ পরাজয় ঠেকাতে পারবে না

ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করার কাছাকাছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ মেয়াদে তারা বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে। বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিদিনের সংঘর্ষ ও চারদিকের সহিংসতা যেন এখন বাংলাদেশের নিয়ম হয়ে উঠেছে।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রিন্ট মিডিয়া। এটা করা হচ্ছে যাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে। কিন্তু বাংলাদেশের ভোটাররা সচেতন। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার পরাজয় ঠেকাতে পারবে না।

গত ৫ বছর আওয়ামী লীগের দুর্বল শাসনের বিষয়ে বাংলাদেশীরা হতাশ। এতে বাংলাদেশ আজকের এই বিশৃঙ্খল অবস্থায়।

গতকাল পাকিস্তানের দ্য নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

‘ভায়োলেন্স ফরবিয়ারস বিডি ইলেকশন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির লেখক ওসমান খান।

তিনি আরও লিখেছেন, রাজধানী ঢাকা বাদে দেশের অন্যান্য স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সরকার। ঢাকায় ব্যাপকহারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নামানো হয়েছে। তারা বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমনে ব্যস্ত। বিরোধী দলের বিক্ষোভকারীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন তদারকের জন্য একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সংবিধান সংশোধন করেছেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। বিরোধী দলগুলো সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে।

এ বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশের ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। তাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেন ভোটাররা। এতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের জোর পূর্বাভাস পাওয়া যায়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে।

বিশ্লেষকরা ব্যাপক দুর্নীতি, ভয়াবহ দলাদলি, উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি, আর্থিক কেলেঙ্কারি, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মিডিয়ার শ্বাসরোধ এবং দলের দুর্বল নেতৃত্বকে এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে পদ্মা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এ প্রকল্পে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায় বিশ্বব্যাংক। তার ভিত্তিতে তারা এ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতির কোন প্রভাব পড়েনি সরকারের ওপর। সরকার ভুল পথে চলা অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।

আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় এলেন তখন ভারতীয়রা তার দায়িত্ব গ্রহণকে তখন সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে দেখায়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দ্রুততার সঙ্গে কমে গেছে। এতে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ভারতীয় সুবিধাভোগীরা উদ্বিগ্ন। ২০১২ সালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তার সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেয়। তাতে দেখানো হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভয়াবহভাবে পরাজিত হবে।

ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগকে অব্যাহতভাবে দেখতে চায়, তাদের সর্বোচ্চ স্বার্থের জন্য।

ওই রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় যে, আওয়ামী লীগকে কমপক্ষে আরও এক মেয়াদে ক্ষমতায় রাখা নিশ্চিত করতে ভারতকে অবশ্যই সরাসরি এ ঘটনায় জড়িত হতে হবে।

ওসমান খান আরও লিখেছেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভারতের দেরাদুনে ভারতীয় সেনা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের ১০০ সশস্ত্র ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই টিমের কোড নাম হলো ‘ক্রুসেডার ১০০’। তারা ভারতে গিয়েছিল ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ফিরে আসে ২০১০ সালের জুনের মাঝামাঝি।

স্বাধীনতা অর্জনের পর আওয়ামী লীগের ত্রুটিপূর্ণ নীতির কারণে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ওয়াজেদের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব, দুর্বল শাসন ও রাজনৈতিক একনায়কত্ব এখন সহযোগীদের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিরোধী দলকে কঠিন হাতে মোকাবিলা করার জন্য। তার একনায়কসুলভ শাসনে বাংলাদেশের মানুষ বিচলিত। তাই আওয়ামী লীগের নির্বাচনের সময় জনগণকে দলে টানার বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা বুঝে গেছেন, আওয়ামী লীগ কখনও তাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে না।

ভারতীয় গোয়েন্দারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের ঘোলাটে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তারা ভারতীয়দের কিছু উপদেশ দিয়েছে। তাতে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরেক দফা ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে এছাড়া তাদেরকে যা দেখতে হবে তা হলো আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসবেন।

অপরিহার্য মনে করে আওয়ামী লীগ ভারতীয়দের পরামর্শে বিএনপির ক্ষতি করা শুরু করেছে। তারা বিএনপিকে পাকিস্তান ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত বলে দাবি করছে।

নির্বাচনী সময়ে একই পদক্ষেপ নেয় ভারতীয় বিজেপি। ভারত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআই’র যোগাযোগ আছে বলে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই অভিযোগ বিএনপির জনপ্রিয়তা কমানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সবসময়ই শ্রদ্ধাশীল পাকিস্তান। এ দেশটিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন করে পাকিস্তান। পাকিস্তান ও এর গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্বাচনে ইস্যু বানিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের জনপ্রিয়তার পতন ঠেকাতে পারবে না। পারবে না আসন্ন নির্বাচনে তাদের পতন ঠেকাতে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ