Home / জাতীয় / নেই হরতাল-অবরোধ,তবু চালের দাম চড়া

নেই হরতাল-অবরোধ,তবু চালের দাম চড়া

হরতাল-অবরোধ নেই। তবু চালের বাজার আগের মতোই চড়া। ক্রেতারা যেমন হতাশা প্রকাশ করছেন, একইভাবে বিক্রেতারা সামনে আনছেন নতুন চেহারায় পুরনো যুক্তি। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের অস্বাভাবিক তারতম্য না থাকলেও এখন আর তেমনটা নেই।

রাজধানীর রামপুরা বাজারের ক্রেতা কাইয়ূম জানান, শীতকালীন সব্জির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও চালের দামটা রয়ে গেছে আগের মতোই চড়া।

হরতাল-অবরোধ নেই, তবুও চালের এমন চড়া দামের কারণে তিনি বেশ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সঠিক মনিটরিং নেই বলেই এমনটা হচ্ছে।’

অপরদিকে রামপুরার ব্যবসায়ী মীর হোসেন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম না কমালে আমরা কী করে কমাবো?’

একই কথা জানালেন মোহাম্মদপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রশীদও।

রামপুরা এবং মোহাম্মদপুরের খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিনিকেট কেজি প্রতি এখন ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৪-৫৫ টাকা, মোটা চাল ৩৬-৩৭ টাকা, বিআর-২৮ ৪৩ টাকা, বিআর-২৯ ৪২-৪৩ টাকা, পাইজাম ৩৯-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে পাইকারি বাজার কারওয়ানবাজারে মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৪৮টাকা, নাজিরশাইল ৪২-৫২ টাকা, মোটা চাল ৩৩ টাকা, বিআর-২৮ ৪০ টাকা, বিআর-২৯ ৪১ টাকা, পাইজাম ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন
চালের দর এখনো কেন চড়া জানতে চাইলে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, মজুদ চাল বিক্রি না হলে আমরা নতুন করে নিয়ে আসতে পারছি না। এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলেও পরিবহণ ভাড়া এখনো কমেনি। এখনও কেজি প্রতি ২-৩ টাকা করে বেশি খরচ হচ্ছে।’

পরিবহণ ভাড়া কেন বেশি লাগছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ‘ট্রাক মালিকরা এখনো তেমন সাহস পাচ্ছেন না রাস্তায় ট্রাক নামাতে। আর এই সুযোগে যারা নামাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন আগের মতোই।’

এর সাথে তিনি যোগ করেন, ‘আগামী সপ্তাহে চালের দাম কিছুটা কমে আসবে, যদি না কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।’

অপরদিকে পেঁয়াজের ঝাঁঝ খানিকটা কমে এসেছে। কারওয়ানবাজারে দেশি পেঁয়াজ ২৬ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২৪ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে রামপুরা এবং মোহাম্মদপুরের খুচরা বাজারে যথাক্রমে ৩২ ও ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এ পণ্য।

কারওয়ানবাজারের বিক্রেতা দেলওয়ার জানান, ‘নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো থাকায় দাম বেশ কমেছে।’

মোহাম্মদপুরের সব্জিবিক্রেতা কামাল
এদিকে আলুসহ শীতকালীন সব্জির দাম রয়েছে নাগালের মধ্যেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। রামপুরা এবং মোহাম্মদপুরের কাঁচাবাজারে আলু কেজি প্রতি ১২-১৫ টাকা, বাঁধাকপি ১৮-২০ টাকা প্রতিটা, ফুলকপি ১৮-২০ টাকা প্রতিটা, কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা প্রতিটা, বেগুন ২০-২৫ টাকা প্রতি কেজি, শালগম ৮-১০ টাকা, শিম ২০-২৫ টাকা, টমেটো ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে কারওয়ানবাজারে আলু ৬ টাকা, বাঁধাকপি ১৫ টাকা প্রতিটা, ফুলকপি ১৫ টাকা প্রতিটা, কুমড়া ২০ টাকা প্রতিটা, বেগুন ১৫ টাকা প্রতি কেজি, শালগম ৫-৬ টাকা, শিম ১৮ টাকা, টমেটো ১৮ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে কারওয়ানবাজারে ২৫ টাকা প্রতি কেজি পাইকারি দরে কাঁচামরিচ বিক্রি হলেও খুচরা বাজার ভেদে এর মূল্যে অস্বাভাবিক তারতম্য দেখা গেছে। রামপুরা বাজারে যেখানে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে মোহাম্মদপুরে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।

এই তারতম্যের কারণ জিজ্ঞেস করলে মোহাম্মদপুরের কোনো বিক্রেতাই কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ