Home / জাতীয় / বিএনপির আন্দোলনে প্রমাণ হয়েছে ‘ভোট চোর’ আওয়ামী লীগ

বিএনপির আন্দোলনে প্রমাণ হয়েছে ‘ভোট চোর’ আওয়ামী লীগ

শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অধীনে হয়ে গেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকার গঠনের কাজও শেষ। দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি এতে অংশ নেয়নি। গত আড়াই বছর ধরে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনের নির্বাচন আর ঠেকানো যায়নি। এই আন্দোলনে বিএনপির কি প্রাপ্তি ঘটলো? সফলতা, ব্যর্থতা কতটা? এ প্রশ্নে বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ভাবনাগুলো নিয়ে মেহেবুব আলম বর্ণ’র তিন কিস্তির প্রতিবেদন। আজ পড়ুন প্রথম কিস্তি:

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি আন্দোলনে সফল হয়েছে বলেই মনে করছেন দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতা। তাঁদের যুক্তি সরকার জোর জুলুম চালিয়ে এই নির্বাচন করলেও এতে জনগণ অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনের মাধ্যমে ‘ভোট চোর’ হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে বলে তাঁদের মত। পাশাপাশি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের অভিমত, দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিশেষ করে ঢাকা মহানগর কমিটির ব্যর্থতার কারণেই আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করে নির্বাচন ঠেকানো যায়নি।

বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা দাবি করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি সমমনা ১৮ দল নিয়ে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছে তাতে দেশের ৯০ ভাগ মানুষেরই সমর্থন রয়েছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তা প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি করেন কমপক্ষে ১৫টি জেলার নেতারা। তাঁরা প্রিয়.কম-কে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ অংশ না নিয়েই প্রমাণ করেছেন বিএনপির প্রধান দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ছিল। ফলে বিএনপির আন্দোলন ও আওয়ামী লীগের আয়োজনের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত যা দেখেছে তাতে অচিরেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আরও জোরালো হবে বলেই মত দেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। তবে সে দাবি আদায়ে বিএনপিকে রাজধানী ঢাকায় আন্দোলন জোরালো করতে হবে বলে মনে করেন তাঁরা। এজন্য ঢাকায় নেতৃত্ব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে জানান বিএনপির জেলা-উপজেলার নেতারা ।

আন্দোলনে সফলতা ও ব্যর্থতা
গত ৫ বছরে বিএনপির আন্দোলনের প্রধান সফলতা কি? এমন প্রশ্নে দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের বড় অংশের মত হলো, দেশের মানুষ বুঝেছে রাজনৈতিক কোনো দলকে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বাবুল গাজী প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এতোদিন বলে এসেছে তারা ছাড়া আর সবাই ভোট চোর। এবার দেশবাসী দেখেছে তারা কত বড় ভোট চোর।’

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেহেরপুর জেলার নেতা সাবেক সাংসদ মাসুদ অরুন, ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দেয়নি। বিএনপির আন্দোলনের সফলতা এটিই বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শামিম তালুকদারের মতে, ‘বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমানোর কর্মকাণ্ড এবং ভোট ছাড়া সাংসদ হয়ে যাওয়ার নজির আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করছে। এই দু’টি বিষয় বিএনপির জন্য বড় সফলতা।’ এ বিষয়টির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নেতা বলেছেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দলের প্রতি ত্যাগ ও ভালোবাসার পরীক্ষা হয়েছে।

অপরদিকে আন্দোলনের ব্যর্থতার প্রশ্নে বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা বলেছেন, চূড়ান্ত বিচারে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে না পারা অন্যতম ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার জন্য তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেই দায়ী করেছেন। তাঁদের মতে, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা আন্দোলনকে তুঙ্গে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকায় নেতারা রাজপথে নামার সাহস ও ক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজশাহীর সাবেক ছাত্রদল নেতা বাচ্চু সরকারের অভিযোগ, ‘অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের ফলে বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতার মধ্যে আড়ষ্ঠতা চলে এসেছে। তাঁরা আন্দোলনের মাঝে টাকা খরচ করতে চাননি।’

এদিকে লক্ষীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাসিবের মতে, ঢাকায় সংগঠনের কাঠামোই ঠিক নেই। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে যতটা সংগঠিত কেন্দ্রে ততটা নয়। সে কারণে ঢাকার ব্যর্থতা সবার চোখে পড়েছে। খুলনার নেতা সাবেক সাংসদ কাজী সেকেন্দার আলী অভিযোগ করেন, ঢাকায় যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। আন্দোলনে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য তিনি ঢাকার আন্দোলন ‘জামানোর’ প্রতি গুরুত্ব দেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া, না নেওয়া
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া প্রশ্নে বিএনপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বিভক্তি খুব কমই আছে। অধিকাংশ নেতা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মত দিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের নেতা এ্যাডভোকেট শামিমুল হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলে যে বিএনপিকে হারিয়ে দেওয়া হতো, তা তো প্রমাণ হয়ে গেছে গত ৫ জানুয়ারি।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ আসনের পাঁচবারের সাংসদ জেলার বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহানের মতে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফেল করার চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অটল থেকে খালেদা জিয়া আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি আপোষহীন নেত্রী।

বিপরীত দিকে বিএনপির যাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভালো ছিল বলে মনে করেন তাঁরা সংখ্যায় কম। নেতৃত্ব বা পদ হারানোর ভয়ে তাঁরা নামপ্রকাশেও অনিচ্ছুক। এমন তিনজন জেলা পর্যায়ের নেতা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নিলে মাঠ পর্যায়ে দল আরও সংগঠিত হতো। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে কারচুপি করলে সব অনিয়ম তখনও মানুষ দেখতে পেত। কারচুপির নির্বাচনের সে সংসদও তো বর্জন করা যেত। এমন ঘটলে জনগণ বিএনপির দিকে আরও বেশি থাকত বলে মত দিয়েছেন সেব নেতারা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ