Home / জাতীয় / পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ!

পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ!

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ নেওয়ার পর পরই গণমাধ্যমের সামনে প্রথম বক্তব্যেই ‘মাথা নত না করার’ শক্ত অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সাথে সরকার সংবিধান অনুযায়ি আগামী ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকবে বলেও জানিয়েছে নবনির্বাচিত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা।

দেশের রাজনীতির বিরোধীপক্ষ বিএনপি-জামাত এর আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির বিরোধীতার মুখে দশম সংসদ নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। দেশের সংবিধান মোতাবেক এই সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর, যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই সরকারের মেয়াদ হয়তো ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মতো হবে।

আপাত দৃষ্টিতে যাই মনে হোক এবং নির্বাচনের আগে যা-ই ঘটুক, এই নির্বাচন শেখ হাসিনাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাকে এখন বেশ চিন্তামুক্ত মনে হচ্ছে। পুলিশ ও আমলারা শেখ হাসিনার সরকারের অনুগত রয়েছে, সেনাবাহিনীও বিশ্বস্ততার সঙ্গে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে। সর্মথন জানাতে শুরু করেছে বিদেশিরাও।

বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে নানা আশংকা এবং চিন্তা-সমস্যার বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। আবার কি শুরু হবে আন্দোলন-সহিংসতা?

মন্ত্রিসভা গঠনের প্রথম দিনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী সরকারের অনঢ় অবস্থান এবং ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সামনে। প্রিয়.কম পাঠকদের জন্য সেসব বক্তব্যের কিছু অংশ প্রকাশিত হলো।

শপথ নেবার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘শেখ হাসিনা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করে না। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক চাপ, যা-ই হোক।’ শপথ নেওয়ার পর শেখ হাসিনা রোববার বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশের মালিক জনগণ। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। পুনরায় জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়া বড় কথা নয়, জনগণের জন্য কাজ করাই হচ্ছে বড় কথা। আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।

বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

শুভেচ্ছা এবং সমর্থন জানাচ্ছে বিদেশিরা

নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও নতুন সরকারের সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুভেচ্ছা জানিয়েছে চীনের প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া বিরোধীপক্ষ বিএনপির সহিংসতার নিন্দা জানানোর সাথে সাথে জনগণের ভোটে নির্বাচিতদের সাথে কাজ করার কথা জানিয়েছে। সর্মথন আর শুভেচ্ছার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রসর ভারত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং থেকে শুরু করে সেদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং বিরোধীদলের নেতারা ফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

শপথগ্রহণ শেষে সৈয়দ আশরাফ

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী এই নবগঠিত সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করব। আপনারা সংবিধান দেখেন, তাহলে সেখানে এ বিষয়টি দেখতে পাবেন।’

নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কি নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছি? বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশিরা আমাদেরকে এ ব্যাপারে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সফল হতে পারেনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যখন সবাই মিলে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে, তখনই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তাদের (বিএনপি) অবশ্যই জামায়াত ও জঙ্গিদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।’

মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে আমির হোসেন আমু

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘কোন দল নির্বাচনে অংশ নিল বা না নিল; তার ওপর সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে না। এটি জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে।’

আমু আরও বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের শিল্প খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দেশের পোশাকশিল্প নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। বর্তমান সরকার এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শিল্পায়নের ধারা অব্যাহত রাখবে।’

তোফায়েল আহমেদ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্যই নির্বাচিত। ভালো কাজ করে সরকার পাঁচ বছরই পূর্ণ করবে। তবে আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে। সমঝোতা হলে সেটা পরে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

রাশেদ খান মেনন

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে সে সরকার পাঁচ বছরের জন্য এসেছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কোনো সরকার গঠন করা হয়নি।’

আনিসুল হক

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধপরিকর। যেভাবেই হোক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব।’

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান সময়টা খুব ক্রিটিক্যাল। কাজেই এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

কামরুল ইসলাম

সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও নতুন সরকারেরর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বোমাবাজি ও সহিংসতা বন্ধ করে শান্তি বজায় রাখা। এর যা যা করার, সরকার তা-ই করবে।’

আসাদুজ্জামান খান

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সুষ্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন নৈরাজ্য আর সহ্য করা হবে না। আমার বক্তব্য একই। নৈরাজ্যকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

গতানুগতিক বক্তব্য বিএনপির

জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেই শেখ হাসিনা একতরফা ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনে জয়ের মেকি আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিশ্বায়নের এই যুগে বিদেশী রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর মতামতকেও প্রধানমন্ত্রী অবজ্ঞা করেছেন’ এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বিদেশীদের সহযোগিতা নিয়েই ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন যা দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমগুলোতে অনেকবার প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বভাব সুলভ দাম্ভিকতাপূর্ণ উক্তির মাধ্যমে আবার জাতিকে জানিয়ে দিলেন তিনি দেশের জনমতকে, আন্তর্জাতিক মতামতকে তোয়াক্কা করেন না।

ফখরুল বলেন, অহংকার ও দাম্ভিকতা পরিত্যাগ করে, জনমতকে সম্মান দিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে, নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অতি দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেই কেবলমাত্র এই ভয়াবহ সংকট থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বেশির ভাগ দল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বর্জন করেছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ফ্রিডম পার্টিসহ কয়েকটি দল নিয়ে নির্বাচন করেছিল। তবে সেই বিএনপি সরকার মাত্র দেড় মাস স্থায়ী হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশন তথ্য অনুসারে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ৩০০টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১,১২১ জন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১,৯৮৭।

অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছে আর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির আলোচিত ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ ৪১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল।

সরকারের মেয়াদ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি-ভবিষ্যত আসলে কী হবে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ