Home / আন্তর্জাতিক / নির্বাচনে সহিংসতার কারণে সাহায্য বাতিলের চিন্তা করছে বৃটেন

নির্বাচনে সহিংসতার কারণে সাহায্য বাতিলের চিন্তা করছে বৃটেন

বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং ভোট কারচুপির কারণে বাংলাদেশে চলমান কিছু প্রকল্পের সাহায্য বাতিলের চিন্তা করছে বাংলাদেশের অন্যতম সাহায্যদাতা দেশ বৃটেন। শনিবার বৃটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বৃটেন রিভিউস এইড টু বাংলাদেশ আফটার ইলেকশন ভায়োলেন্স’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি প্রকল্পে ৫ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সাহায্য বন্ধ করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বৃটিশ সরকার। রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এরপর আরো সাহায্য বন্ধ করা হতে পারে বলে জানান ওই মুখপাত্র।

ওই মুখপাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৩০০ আসনের সংসদের ১৫৩টি আসনে ভোট দেওয়ারই কোনো সুযোগ ছিল না। এসব আসনে প্রার্থী ছিল মাত্র একজন। বাকি ১৪৭ আসনে ভোট হলেও সেখানে প্রতীকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকার অস্বীকৃতি জানানোর কারণে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিকরা ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচন বর্জন করে।

নির্বাচনের পরপরই এক বিবৃতিতে বৃটেনের পররাষ্ট্র বিষয়ত মন্ত্রী সাঈদা ব্যারোনেস ওয়ারসি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অর্ধেকেরও বেশি আসনে ভোটাররা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটানোর সুযোগ পাননি এবং অন্য আসনগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য।

ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনের মুখপাত্র ওয়ারেন ডেলি বলেন, বাংলাদেশের সংসদ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্পে সাহায্য বাতিল করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে যুক্তরাজ্য।চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।

বৃটেনের চতুর্থ বৃহত্তম সাহায্যগ্রহীতা দেশ বাংলাদেশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৃটেনের কাছ থেকে ২৭ কোটি ৪৯ লাখ পাউন্ড সাহায্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাহায পাওয়ার কথা ২৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। যদিও এসব সাহায্যের বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ব্যয় করা হয়।

তবে ৩০ ভাগ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়। বাংলাদেশে সংসদকে সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দুটি প্রকল্পে বৃটেনের ৫ কোটি ৬৩ লাখ পাউন্ড অর্থ সাহায্য দেয়ার কথা রয়েছে। এখন এ দুটি প্রকল্পে সাহায্য বাতিলের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় চলতি ও আগামী বছর ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করার কথা। এর প্রধান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এশিয়া ফাউন্ডেশন। এর প্রধান লক্ষ্য সংসদের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি। দ্বিতীয় প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনায় আছে বিশ্ব ব্যাংক এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ সরকার। এর লক্ষ্য হলো- বাজেট ও সরকারি অডিটের ওপর সংসদের নজরদারি বাড়ানো।

এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব প্রকল্পে সাহায্য বন্ধের জন্য বৃটিশ সরকার যে পর্যালোচনা করছে তাতে তিনি ‘বিস্মিত নন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে এই সংসদ গঠন সঠিক হলেও এতে রাজনৈতিক, নৈতিক ও জনগণের মান্ডেট নেই এবং সংসদের বিশ্বাসযোগতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

উল্লেখ্য, বৃটিশ সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে এটিই হবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো দেশের বৈদেশিক সাহায্য বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসেও বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তরফ হতেও একই রকম পদক্ষেপ আসতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ