Home / জাতীয় / অবরোধে দূরপাল্লার বাসচলাচল বন্ধ, লণ্ডভণ্ড ট্রেনের শিডিউল

অবরোধে দূরপাল্লার বাসচলাচল বন্ধ, লণ্ডভণ্ড ট্রেনের শিডিউল

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে টানা ৬০ ঘণ্টা হরতাল শেষ হয়েছে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায়। কিন্তু পূর্ব ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জনমনে। এতে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে দূরপাল্লার বাস যোগাযোগ, লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রেলওয়ের সিডিউল।

অনির্দিষ্টকালের অবরোধে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীশূন্য টার্মিনাল। সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না দূলপাল্লার কোনো বাস। তবে ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে লোকাল সার্ভিসে কয়েকটি বাস ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও রয়েছে যাত্রীর অভাব।

অবরোধেও বাস ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে সিলেটগামী মিতালি পরিবহনের মালিক শাহিন তালুকদার বলেন, সায়েদাবাদ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে কয়েকটি পরিবহনের লোকাল বাস ঝুঁকি নিয়ে হরতাল-অবরোধের মধ্যও চলাচল করে। তাই আজও আমরা বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তবে বাস ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও সহিংসতার আতঙ্কে যাত্রী আসছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বলেন, আমরা সাহস নিয়ে বাস চালালেও যাত্রী না থাকায় সারাদিনে ৬ থেকে ৮টি বাস ছাড়তে পারছি।

এদিকে সায়েদাবাদ থেকে অবরোধে একেবারেই ছেড়ে যায় না- কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম যশোর এবং রংপুর রুটের বাস।

এ বিষয়ে একুশে পরিবহনের ম্যানেজার শাহজাহান মিয়া বলেন, এসব রুটের বাসগুলো সব চেয়ারকোচ পরিবহন। এই বাসগুলো অনেক উন্নত ও দামি। তাই পরিবহন মালিকরা এই দীর্ঘ রুটে অবরোধে বাস ছাড়ার ঝুঁকি নেন না। তাই হরতাল-অবরোধে এই রুটগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ থাকে।

এদিকে টানা পাঁচদিন বন্ধ রাখার পর খুলনাগামী বনফুল-সুন্দরবন, বাগেরহাটগামী বনফুল এবং বরিশালগামী সুগন্ধা পরিবহন ছেড়ে যাবে বলে জানা গেছে। তবে সকাল ১০টা পর্যন্ত এ রুটের বাসগুলোও টার্মিনাল ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি।

এদিকে রাজধানীর মহাখালী ও গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

অবরোধের সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকাগামী প্রায় প্রতিটি ট্রেন ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা শিডিউল বিপর্যয়ে ফেঁসেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই পথের যাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস রাত ৪টা ৫০, রংপুরগামী রংপুরএক্সপ্রেস ৬টা ১৫, চট্টগ্রামগামী তুর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস ৬টা ৩৫, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬টা৫০, দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস ৭টা ১৫ মিনিটে আসার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এসব ট্রেনের দেখা মেলেনি।

এতে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে গভীর রাত থেকে ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। তাদের অভিযোগ, আমরা ট্রেন ছাড়ার সঠিক সময়েই স্ট্রেশনে এসেছি। কিন্তু ট্রেনের কোনো দেখা নেই। আর কখনইবা আসবে তারও কোনো সঠিক সময় জানা নেই। আর এ ব্যাপারে কয়েকদফা স্টেশন মাস্টারের কাছে গেলে তিনিও সঠিক সময় বলতে পারছেন না।

এদিকে ট্রেনের শিডিউল লণ্ডভণ্ডের কারণে বিক্ষুব্ধ যাত্রী প্ল্যাটফর্ম মাস্টার ও স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষের সামনে প্রায়ই জলটা লাগতে দেখা গেছে। ওয়েটিং রুমগুলোতে যাত্রীদের অলস ভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রী ওয়েটিং রুমে স্থান না পেয়ে তীব্র শীতে প্ল্যাটফর্মগুলোতে পায়চারি করতে দেখা গেছে।

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. খায়রুল বশীর বলেন, মাঝে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও রেলওয়ের ফিশপ্লেট খুলে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে রেল চলাচলের স্বাভাবিক গতি। আর এ কারণেই নিধারিত সময়ে রেল ছেড়ে যাওয়া ও গন্তব্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা শিডিউল রক্ষার চেয়ে নিরাপত্তার দিকটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আর প্রতিটি ট্রেন যাতায়াতের আগে রেলওয়ে শাটল ট্রেন নাশকতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে।

তবে হরতাল-অবরোধ না হলে ট্রেন সঠিক সময়ে পৌঁছানো ও ছেড়ে যাবে। তখন এমনিতেই সঠিক শিডিউলেই ট্রেন ছেড়ে যাবে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ