Home / জাতীয় / ২৩ বছর পর জাতীয় পতাকা ছাড়া খালেদা জিয়া

২৩ বছর পর জাতীয় পতাকা ছাড়া খালেদা জিয়া

সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক। বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের এই জাতীয় পতাকা এখন আর বিএনপির চেয়ারপারশন খালেদা জিয়ার গাড়িতে উড়বেনা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর খালেদা জিয়াকে এখন বাংলাদেশের পতাকাবিহীন গাড়িতে চলাচল করতে হবে।

দশম জাতীয় সংসদের সাংসদরা আজ বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করেছেন। এই নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। ফলে এবার সরকারি বা বিরোধী কোন আসনেই নেই বিএনপি। যার কারনে দলটির নেতা খালেদা জিয়া এবার প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা নন। ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ এর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত স্বল্প মেয়াদী সংসদেরও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়া হন বিরোধী দলের নেতা। এরপর ২০০১ সালে আবারো খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। ২০০৮ সাল থেকে চলতি বছরের আজ ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দশম সাংসদদের শপথের আগ মুহুর্র্ত পর্যন্ত খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। এখন তিনি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন। ফলে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়া এখন থেকে আর তা তাঁর গাড়িতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধিতে বলা হয়েছে,“নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিবর্গের অফিসিয়াল বাসভবনে ‘পতাকা’ উত্তোলন করা হইবে: (ক) রাষ্ট্রপতি; (খ) প্রধানমন্ত্রী; (গ) জাতীয় সংসদের স্পীকার; (ঘ) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি; (ঙ) মন্ত্রীবর্গ; (চ) চীফ হুইপ; (ছ) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার; (জ) জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা; (ঝ) মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ; (ঞ) প্রতিমন্ত্রীবর্গ; (ট) প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ; (ঠ) উপমন্ত্রীবর্গ; (ড) উপমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ; (ঢ) বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক /কনস্যুলার /মিশনসমূহের প্রধানগণ; (ণ) রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যানগণ।”

বিধিতে আরো বলা হয়, “রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁহাদের মোটরযান, জলযান এবং উড়োজাহাজে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করিবার অধিকারী হইবেন।”

এছাড়া,“নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিবর্গ তাঁহাদের মোটর গাড়ী ও জলযানে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করিবার অধিকারী হইবেন : (ক) জাতীয় সংসদের স্পীকার; (খ) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি; (গ) মন্ত্রীবর্গ; (ঘ) চীফ হুইপ; (ঙ) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার; (চ) জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা; (ছ) মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ; (জ) বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক/কনস্যুলার/ মিশনসমূহের প্রধানগণ।”

সেইসঙ্গে“ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, উপমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ রাজধানীর বাহিরে দেশের অভ্যন্তরে অথবা বিদেশে ভ্রমণকালীন সময়ে তাঁহাদের মোটরযান এবং জলযানে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলনের অধিকারী হইবেন।”

এছাড়াও জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে নিয়মগুলো মানতে হয় তা হলো,বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশন ও কনস্যুলেটে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পতাকা অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে প্রথমে পতাকা শীর্ষস্থান পর্যন্ত ওঠাতে হবে। তারপর অর্ধনমিত অবস্থানে রাখতে হবে। দিনের শেষে পতাকা নামানোর সময় পুণরায় শীর্ষস্থান পর্যন্ত উঠিয়ে তারপর নামাতে হবে।সরকারের অনুমতি ব্যতীত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা যাবে না।জাতীয় পতাকার ওপর কিছু লেখা অথবা মুদ্রণ করা যাবে না। এমনকি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে কিছু আঁকা যাবে না।

এছাড়া জাতীয় পাতাকাকে অসম্মান করলে শান্তিরও বিধান রয়েছে।
– মেহেবুব আলম বর্ণ

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ