Home / নির্বাচন / জাপাকে নির্বাচনে রাখতে আসনপ্রতি ২৫ লাখ থেকে কোটি টাকা

জাপাকে নির্বাচনে রাখতে আসনপ্রতি ২৫ লাখ থেকে কোটি টাকা

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সিএমএইচ-এ আটক করে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে রাখতে প্রার্থীদের দেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। আসন ও প্রার্থীভেদে ২৫ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত একটি সংস্থার মাধ্যমে বিলি করা হয়েছে বলে জাপার একাধিক নেতা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রার্থী তা স্বীকারও করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে টাকা বিলির বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জাপার প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, নির্বাচন হলে তো প্রার্থীদের টাকা দিতেই হয়। এটা নির্বাচনী খরচ। জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক আবুল হাসান জুয়েল বলেন, আমি শুনেছি প্রথমে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। পরে আবার আরও ১৫ লাখ করে দেয়ার কথা। তবে এ টাকা অনেকেই পাননি। তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী ও গোপালগঞ্জ এলাকার জাপার প্রার্থীরা কোন টাকাই পাননি।
গড়ে ৩৫ জন প্রার্থী এ টাকা পেয়েছেন। জাতীয় ছাত্রসমাজের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হামিদ ভাসানী বলেন, কুমিল্লা-১ আসনের আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন, জামালপুর-৪ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার, কুমিল্লা-৪ আসনের ইকবাল হোসেন রাজু, গাজীপুর-৪ আসনের ড. মিয়া মো. আনোয়ার হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের রেজোয়ান আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জিয়াউল হক মৃধা, ৩ আসনের কাজী মামুনসহ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমন অর্ধশতাধিক নেতাকে সরকারের একটি সংস্থা অর্থ দিয়েছে। জাপা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি) আসনের জাপার প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন নিজে প্রথম দফায় ১০ লাখ, পরে আরও ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। তিনি সে টাকা থেকে কর্মীদের না দেয়ায় দাউদকান্দি উপজেলা জাপা, যুবসংহতি ও ছাত্রসমাজ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রসমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও কুমিল্লা-১ আসনের বাসিন্দা ইফতেখার হাসান বলেন, মাখন ভাইকে দুই দফায় টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু উনি একটি টাকাও কর্মীদের পেছনে খরচ করেননি। সারা দিন বসে থাকেন মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার বাসায়। আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন বলেন, আমি যা পেয়েছি তা খুবই কম।
জামালপুর-৪ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার টাকা পেয়ে কর্মীদের পেছনে খরচ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রসমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান বলেন, টাকা পেয়েছেন মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার। আমাদের অন্য প্রার্থীরা টাকা খরচ করছেন আর আমরা খরচ করতে পারছি না। তবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে টাকার জন্য রাজনীতি করি না। ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার বলেন, বিষয়টি যখন জেনেছেন আমি আর কি বলবো। আমি ২০ লাখ টাকা পেয়েছি একটি জায়গা থেকে। তবে কর্মীদের যা পেরেছি দিয়েছি। তাদের মন রক্ষা করা কঠিন। গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী ড. মিয়া মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে টাকা খরচ করছি। বিশেষ মহল থেকে নির্বাচনী ফান্ড পাওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। জাপা কর্মীদের অভিযোগ, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনে ফিরোজ রশীদ খুব একটা টাকা খরচ করছেন না। অথচ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন।
এ প্রশ্নে জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক আবুল হাসান জুয়েল বলেন, কাজী ফিরোজ রশীদকে দেয়া হয়েছে কোটি টাকার বেশি। এখন তিনি যদি খরচ না করেন কিছু করার নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী তার আসনটি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে প্রার্থীরা টাকা পেলেও সে টাকা থেকে কর্মীরা ভাগ না পাওয়ায় অনেক আসনে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। গত রাতে টাকা ধরতে কর্মীরা মহাসচিবসহ অনেক প্রার্থীর বাসাবাড়ি পাহারা দিয়েছেন। জাপার ৬৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে আছেন। আর ২০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ