Home / আন্তর্জাতিক / শপথ পর্যন্ত গৃহবন্দী থাকবেন খালেদা জিয়া : ইকোনমিস্ট

শপথ পর্যন্ত গৃহবন্দী থাকবেন খালেদা জিয়া : ইকোনমিস্ট

5634_f1-300x167বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গৃহবন্দী রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ না নেয়া পর্যন্ত তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হবে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট ‘ইলেকশন ফারস ইন বাংলাদেশ, দ্য মাইনাস ওয়ান সলিউশন’ শিরোনামে শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এই নির্বাচনকে মাইনাস ওয়ান (খালেদা জিয়াকে বাদ দেয়ার পদ্ধতি) ফর্মুলা কার্যকর করার প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখছে পত্রিকাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকার ৭৯ নম্বর সড়কের দিকে তাকালেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চেহারা পরিষ্কার বোঝা যাবে। একটি বাড়ির দুই পাশের রাস্তা পাঁচটি বালুবোঝাই ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ আর এক-তৃতীয়াংশ আটকে দিয়েছে রাশিয়ান দূতাবাসের উঁচু দেয়াল। এই বাড়িতেই বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। তার নেতাকর্মীদের মধ্যে যারাই তার সাথে দেখা করার জন্য সেখানে গিয়েছেন তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, জেলে ঢোকানো হচ্ছে নতুবা সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে ৫ তারিখের নির্বাচনকে লোক দেখানো কৌশল উল্লেখ করে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্র ১৭টি দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে। এ ছাড়া নির্বাচন বর্জন করার খেসারত হিসেবে দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক ও তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হাসপাতালে আটক করে রেখেছে সরকার। এর পরের বৃহৎ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে তাদের গঠনতন্ত্র ধর্মনিরপে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিকÑ এই অভিযোগে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীরা বলপ্রয়োগ করতে পারেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩টি আসনের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ৯ কোটি ২০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ভোটার ভোট দিচ্ছেন না। যারা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন তাদেরকে সরকারদলীয় প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে। এমনকি জনবহুল ঢাকাতে ২০টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’তে সরকারের বাধা দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ ডিসেম্বর বিশাল সমাবেশের ডাক দেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া ঢাকার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় এবং গ্রেফতার করা হয় বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মীকে। কর্মসূচির দিন আয়োজনস্থল বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে কেবল সাংবাদিকদেরই উপস্থিতি ল করা যায়। সুপ্রিম কোর্টে লাঠি হাতে আওয়ামী লীগের হামলার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মসূচির দিন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকে বিােভকালে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিপে করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় লাঠি হাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। হামলা চলাকালে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ওই দিন আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে লাঠি হাতে রাজপথে অবস্থান নেয়। কিন্তু অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে এবং ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েনের কারণে বড় কোনো রক্তয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জনমত তত্ত্বাবধায়কের পে থাকলেও নিজেদের সুবিধার জন্য ২০১৪ সালের নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করা ছিল সরকারের একটি কুটিল পরিকল্পনা। নতুন সরকারের মেয়াদ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকেই মনে করে শেখ হাসিনা সরকার এক বছরের বেশি টিকবে না। তার এক উপদেষ্টা বলেছেন, এ সরকারের স্থায়িত্ব হবে অল্প সময়ের জন্য। নির্বাচনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ঢাকায় কী হতে যাচ্ছে, তাই নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ