Home / নির্বাচন / একতরফা নির্বাচনে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে বাংলাদেশ : অধিকার

একতরফা নির্বাচনে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে বাংলাদেশ : অধিকার

৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অমিমাংসিত রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট সহিংসতায় চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে অধিকার জানায়, বিরোধীদল নির্বাচন বয়কট করার কারণে কোনো প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনের আগেই ৩০০টি আসনের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যান; যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় নজিরবিহীন ঘটনা। এই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ১২৬ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অমিমাংসিত রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট সহিংসতায় চরমভাবে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে এবং সরকার ও বিরোধী দল একে অপরকে দোষারোপ করছে। একদিকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মানুষ নিহত হচ্ছে; অপরদিকে যানবাহনে পেট্রোল বোমা ও আগুন ধরিয়ে দেয়ার কারণে সাধারণ নাগরিকদেরও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, শিশুরাও এই ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে।
এতে বলা হয়, সরকার এই সহিংস পরিস্থিতিতে বিরোধী মতকে নির্মমভাবে দমন করছে। যৌথবাহিনী ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে গণগ্রেফতার করছে ও বাড়ীঘর বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিরোধীদলের শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বিরোধীমতের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুমের ঘটনাও ঘটছে।
এছাড়াও গ্রেফতারের পর অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। অধিকার-এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২৫ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৪৯ জন নিহত এবং ৪৮৮৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সময় ৫৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে ১০ জনকে আইন শৃংখলা রাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ঢাকা অভিমুখে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর বাড়িতে বেআইনীভাবে আটকে রাখে, যা এখনও পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে৪। এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রতিটি প্রবেশ মুখে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীরা লাঠি হাতে বিরোধী দলের কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষকে ঢাকায় ঢুকতে বাধা দেয় ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ঢাকাকে সমস্ত দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এইদিন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
করার সময় জাতীয় প্রেসকাবে সাংবাদিকদের ওপর এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের ওপর সরকারী দল সমর্থক বহিরাগত ব্যক্তিরা আক্রমণ চালিয়ে অনেককে আহত করে। এই সময় বিএনপির ২ জন নারী আইনজীবীকে তারা লাঞ্ছিত ও পিটিয়ে জখম করে।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ