Home / জাতীয় / বর্তমান রাজনীতি এবং একটি তাত্ত্বিক আলোচনা

বর্তমান রাজনীতি এবং একটি তাত্ত্বিক আলোচনা

1388680950.
প্রফেসর ড. মখদুম মাশরাফী রাজনীতিকে স্থিত যুদ্ধাবস্থা বলেছি বারবার। তবু অধো মানুষের উত্তরণের জন্যে রাজনীতির বাধ্যতা অনিবার্য-এ কথাও কথিত হয়েছে একই সঙ্গে। কেননা, প্রায়োগিকের ধুলোমাটি স্পর্শ না করে সরাসরি বুদ্ধিবৃত্তির উচ্চ মার্গে যাবার অবকাশ নেই। সেই জন্যে রাজনীতি একটা স্তরে ও সাময়িকে অবধারিত হয়ে যায়। আপেক্ষিক অর্থে ধুলোয় মলিন সেই স্তর, ধুলোয় মলিন সেই সাময়িক। কালের ভগ্নাংশ সেই সাময়িক। শাশ্বতের ভগ্নাংশ সেই সাময়িক। আর সেই সাময়িকের মানুষেরা আপেক্ষিক অচরিতার্থ। শাশ্বত মানুষের সাময়িকতা-বন্দি মানুষ তারা। তারা মানুষ হয়ে ওঠার পথে কেবল; মানুষ হয়ে ওঠেনি, মানুষ হয়ে ওঠার উপক্রম করছে মাত্র। রাজনীতি এই সন্ধিকালের বিষয়। মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার উপক্রমের সন্ধি সময়ে রাজনীতির যত প্রাসঙ্গিকতা। যুক্তির প্রযুক্তি যখন পূর্ণ বিকশিত নয়; প্রাণ ও যুক্তির সমন্বয় যখন বন্ধ্যা, ব্যর্থ অথবা বিকাশোন্মুখ যখন, তখন রাজনীতি প্রাসঙ্গিক। তখন রাজনীতিকে পাশ কাটানোর উপায় থাকে না। সেই সাময়িকে রাজনীতি মানুষী উত্তরণের উপায় হয়ে ওঠে। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবাধিকার অর্জনের ও প্রতিষ্ঠার উপায় হয়ে ওঠে।
কিন্তু সব সময় রাজনীতি নেতিবাচকভাবে ব্যয়বহুল। রাজনীতির কৌশলের সামগ্রিকতা যতটা নেতি ততটা ইতি নয়। রাজনীতি তার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যতটা কল্যাণ ও আলো নিয়ে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি অকল্যাণ ও অনালোক বয়ে আনে। এসবের নিক্তি নিক্তি হিসেবের সূক্ষ¥ বিজ্ঞান এখনো অর্জিত নয় বলে তার যাচাই এখনো অনেক দুরূহ। সেজন্যই তা মানুষের ভাবনা এলাকার বাইরেই রয়ে গেছে। বিষেশত, সাংবাদিকতার উত্তুঙ্গ প্রাসঙ্গিকতার কারণে তার এ ভাবনা এলাকায় আসার ধারাটি ধীর হয়ে আছে। সাংবাদিকতার সাময়িকতা শাশ্বতের অন্তঃসারের উন্মোচনাকে আপেক্ষিক অর্থে সার্বক্ষণিকভাবে বন্ধ্যা করে রাখে। উপলব্ধি ও দর্শনের ধারাকে স্থিতিশীলতা দেয় না। ডেপ্থ রিপোর্টিং এ ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা দিতে পারলেও তার চর্চা তেমন হয় না। এছাড়াও, বিভিন্ন শক্তির আদর্শিক ও অন্যান্য স্বার্থ এ ধারাকে নিজের পক্ষে প্রভাবিত করতে গিয়ে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত ও তাত্ত্বিকভাবে অথবা প্রায়েগিকভাবে বিপর্যস্ত করে। ফলে ইতিহাসের অন্তর্গত স্বাভাবিক আলোকায়নের উন্মোচনা ও তার আদৃতি অনিবার্য হতে পারে না। তা সাময়িক, সাময়িকের সংস্কৃৃতি ও সাময়িকের আদর্শের কাছে পরাভূত হয়ে চলে। এটি আরো প্রবল হয়েই থাকবে, যত দিন না সাংবাদিকতায় আরো গভীর প্রজ্ঞার সম্পাত ঘটবে এবং যত দিন না সাংবাদিকতা নিছক সাময়িকতা সর্বস্বতা পরিহার করবে। এ থেকে উত্তীর্ণ হতে হলে সাংবাদিকতাকে প্রজ্ঞা ও কাল অর্থে সর্বমাত্রিক হতে হবে। নিছক সাময়িকতা মাত্রিক হয়ে থাকলে চলবে না। নিছক সাময়িকতা মাত্রিক হয়ে থাকলে সাংবাদিকতা রাজনীতির তল্পিবাহক হয়ে থাকবে, সভ্যতার আলোকায়নে যথার্থ অবদান রাখতে পারবে না। যতদিন সাংবাদিকতা রাজনীতির তল্পিবাহক হয়ে থাকবে ততদিন তা মানুষের জীবনে বিপর্যয়ের পক্ষে একটি দুষ্ট শক্তি হিসেবে কাজ করতে থাকবে। সাময়িক ও শাশ্বতের অন্তর্নিহিত সম্পর্কের নির্যাসকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেই কেবল সাংবাদিকতা মানুষের জন্যে ও মানুষের হয়ে কাজ করতে পারবে। তা না হলে তা জান্তে অথবা অজান্তে মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করতে থাকবে।
রাজনীতিতে যখন জীবনের চেয়ে আদর্শ বড় হয়ে ওঠে তখন রাজনীতি আপেক্ষিক অর্থে কৌশল সর্বস্ব হয়ে ওঠে। রাজনীতিতে যখন মানুষের চেয়ে ক্ষমতা বড় হয়ে ওঠে তখন রাজনীতির কৌশলসর্বস্বতা নিষ্ঠুর, নগ্ন ও গণহত্যামুখী হয়ে ওঠে। ফরাসী বিপ্লবে রাজতন্ত্র এমনই উদাহরণ হয়েছিল ইতিহাসে। আরব বসন্তে গাদ্দাফির আচরণ এমনই উদাহরণ হয়েছিল। বর্তমান সিরিয়ায় আসাদের আচরণ এমনই উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এ রকম সময় ও পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতির কাঠামো বদলানোর অবসর তৈরি হয়। এ রকম পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতির কাঠামো সম্প্রসারের প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। এ রকম সময়ে জাতীয়তাবাদের আবেগনির্ভর আয়তনে রাজনীতি আর সুস্থ অথবা স্বাভাবিক থাকে না। আরো বস্তুনিষ্ঠ, আরো প্রায়েগিক বাস্তবতাবোধ ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও আয়তন ঐতিহাসিক বাধ্যতার বিষয় হয়ে দেখা দেয়। বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে ইউরোপ এই বাধ্যতার বিষয়টি আঁচ করেছিল। যুদ্ধ ও হত্যাকা- যে মানুষী আত্মপ্রবঞ্চণা ও জঘণ্য ব্যর্থতা তা ইউরোপের দার্শনিক চোখ খুলে দিয়েছিল। দার্শনিক ব্যর্থতাই যে মানুষী জীবনে সব থেকে বড় ব্যর্থতা-ইউরোপ তা বুঝেছিল। তারই প্রকাশ ঘটেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায়। তারই প্রকাশ ঘটেছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায়। জাতীয়তাবাদের আবেগ সর্বস্বতাকে ছাড়িয়ে গভীর দার্শনিক উপলব্ধি ও জীবনবোধকে জায়গা করে দেবার জন্যে সভ্যতার জন্যে জাতীয়তাবাদ উত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারের আয়োজন হয়েছিল বাস্তব বুদ্ধির আলোকে। রাষ্ট্র নয়, সুপার রাষ্ট্র; রাষ্ট্র নয়, আঞ্চলিক রাষ্ট্র সংহতি; অতঃপর বিশ্বব্যাপ্ত মানুষী সংগঠন, এই ভাবনা ধারা বস্তুনিষ্ঠভাবে অনূদিত হয়েছে। যেখানেই আবেগাশ্রিত জাতীয়তাবাদ রাজনীতিকে জীবনবিরোধী ও মৃত্যুমুখী অচলায়তনে পরিণত করতে উদ্দত হয় সেখানেই কৌশলসর্বস্বতা ও নগ্ন হত্যাকা- অবধারিত হয় আর সেখানেই ঐ উল্লিখিত দার্শনিক বোধে সমাধান পাওয়া যায়। আমাদের সেই সমাধানই খুঁজে নিতে হবে।
বুঝে নিতে হবে মানুষের মৃত্যুতে মানুষের কল্যাণ নেই, এ কথা যত দ্রুত বোঝা হয়ে ওঠে ততই মঙ্গল। ভাববাদী সেক্যুলারিজম নয়, সেক্যুলার ফর্মালিজমই বাস্তব সম্মত। এটি আরোপ করা যায় না। এটি ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে ক্রমে ক্রমে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। এটি আদরের জিনিস, যতেœর জিনিস, এটি যুদ্ধের জিনিস নয়। প্রেম যেমন ছিনিয়ে নেয়া যায় না সেক্যুলারিজম তেমনি জোর করে আরোপ করা যায় না। ছিনতাই মানেই যুদ্ধ, আরোপ মানেই যুদ্ধ, নগ্ন হত্যাকা-, গণহত্যা। একইভাবে ভাববাদী কল্যাণ আকাক্সক্ষী আদর্শবাদ অথবা বিশ্বাসভিত্তিক ভাববাদী আদর্শবাদ প্রায়েগিক জীবনে বিপর্যয় যতটা ডেকে আনে কল্যাণ ততটা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। মানুষের উপলব্ধির স্তরকে এগিয়ে নিয়ে, একটি সমাজ সামগ্রিক সাধারণ স্তরে এ উপলব্ধিকে এগিয়ে নিয়ে, মানুষের এবং মানুষের জন্যে কল্যাণ প্রকল্প ও কল্যাণ পরিকল্পনা রূপায়ণযোগ্য করা যায়। এ রকম স্তর পরিপার্শ্বে সাধারণ মানুষের স্বতঃপ্রণোদনা সর্বত্র সক্রিয় হয় এবং সংঘাতের অবসরগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে। তখন সমাজের অন্তঃসার কল্যাণ শক্তিতে পরিণত হয়। রাজনীতির উদ্দেশ্যপ্রবণতা ও কৌশলপ্রবণতা বা কৌশল সর্বস্বতা তাকে বিপন্ন করতে পারে না। এ হচ্ছে মানুষকে উপলব্ধি সুন্দরভাবে প্রক্রিয়ার ভেতরে আনবার বিষয়; মানুষকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে প্রক্রিয়াকে সচল রাখার বিষয় নয়। এ হচ্ছে মানুষী সমস্যার মানুষী সমাধানের বিষয়; অতি আদর্শিকতা বা অতি সভ্যতায়নের বিষয় নয়। মানুষকে অনুসারী করে নয়, বরং তাকে অংশীদার ও অংশগ্রহণকারী করে প্রক্রিয়াকে সচল রাখলে প্রক্রিয়া যেমন কার্যকর হয় তেমনি হয় আপেক্ষিক অর্থে সংঘাতহীন। রাজনীতিতে চাতুর্যের ও বর্বরতার ইতিহাস হচ্ছে মানুষকে অনুসারী করে রেখে তাকে তাত্ত্বিক বিভ্রান্তিতে ফেলা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে উল্লম্ফনে ব্যস্ত করে তুলে ফায়দা হাসিল করা, তাকে কখনোই উপলব্ধির মধ্যে উপস্থিত না করা। এ রকম পরিপ্রেক্ষিতেই অসহায় ও উত্তেজিত মানুষ রক্ত গঙ্গা তৈরি করে নিজেই রক্তস্নান করে; ইহিহাসের বিভৎস পরিবর্তনকে আবাহন করে।
গণমানুষকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে রাজনীতিকে সর্বার্থে এলিটীয় করে তুললে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সঠিক ও শুদ্ধ বন্ধন ঘটে না। তখন নির্বাচনের প্রহসন সম্ভাব্যতা হয়ে ওঠে শত ভাগ। তখন কৃত্রিম তত্ত্বায়নের মধ্য দিয়ে গণবিভ্রান্তি সৃষ্টির অবসর ও কৌশলগত বাধ্যতা তৈরি হয়। তখন বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক রূপক আবিষ্কার ও ব্যবহারের মাধ্যমে অনুসারী গণমানুষকে গণস্বার্থ বিরোধী সংগ্রামে যেমন উত্তাল করে তোলা যায়, তেমনি যায় উপলব্ধিহীন ভোটাধিকার প্রয়োগের উদ্দেশ্য প্রণোদিত বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া। পশ্চাৎপদ সমাজে রাজনীতির এলিটীয়তায় ডিমাগগের একটি স্বতঃপ্রণোদিত আবেদন থাকে। বিভ্রান্ত তত্ত্বীয়তা ও ডিমাগগের নাটকীয় ভাষ্য উপস্থাপনা গণজাগৃতি ও গণবিভ্রান্তিকে একাকার করে ফেলে এবং এলিটীয় উদ্দেশ্য সাফল্যের অনুকূলে উত্তুঙ্গ পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলে, যার বিরুদ্ধে কোন যুক্তির প্রয়োগ পরিবেশ থাকে না। তারপর ঐ তত্ত্ব বিভ্রান্তির পুনরুৎপাদনকে অনবরত ধারায় ও শক্তিতে পরিণত করা যায় এবং করা হয়ে থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে সমাজে শুদ্ধ যুক্তি ও রাজনৈতিক যুক্তির একটি গভীর দ্বন্দ্ব সঞ্চার ঘটে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বিশ্লেষণের অবসরকে দীর্ঘকালের জন্যে নির্মূল করে ফেলে। এইভাবে গণবিচ্ছিন্নতা ও বিকৃত এলিটীয়তা রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণের বাইরে উপস্থিত করে এবং তাত্ত্বিক বিভ্রান্তিকে আপেক্ষিক অর্থে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। তখন গণতান্ত্রিক বিভান্তি যেমন সচল তেমনি প্রবল হয়ে বিরাজ করে। তখন সংঘাতের চাষবাস সহজ ও নিত্য হয়ে ওঠার সম্ভাব্যতার মধ্যে উপস্থিত হয়। পশ্চাৎপদ রাষ্ট্র এইভাবে সমাজ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আত্ম-প্রবঞ্চণাময় আধারে পরিণত হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় গণঅংশিতা ও গণঅনুসারিতার দ্বন্দ্ব গণতন্ত্রকে স্থায়ী অচলায়তনে পরিণত করে রাখে। এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ যুক্তির শুদ্ধতাকে নিশ্চিত করা। যুক্তির শুদ্ধতা নিশ্চিত না হলে রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি পরস্পরের সঙ্গী হয় না। একই কারণে গণতন্ত্রের পথও অবারিত হয় না।
আজকের দিনে আমাদের মানুষী দায় হচ্ছে রাষ্ট্র উত্তর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদকে প্রগতিশীলভাবে ও ওরিয়েন্টেশনালভাবে চরিতার্থ করবার আয়োজন করা। আর এ বিষয়ে যারা ভুল করছে তাদের আন্তরিকতার সাথে বোঝানো। সে বা তারা আমাদের চেয়ে আপেক্ষিক অর্থে বড় অথবা ছোট হোক। মনে রাখা দরকার, আপেক্ষিক অর্থে কেউই শেষাবধি, অথবা শাশ্বতভাবে, বড় নয়। এই তো সেদিনের কথা, কত বড় সোভিয়েত ইউনিয়ন রাতারাতি ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। সূর্যাস্তহীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ধূলিস্মাৎ হয়ে গেল কয়েকটি বছরের ব্যবধানে। মানুষের জয়, মুক্তি ও চরিতার্থতা বিরাজিত উপলব্ধিতে, যুক্তি অধ্যুষিত দর্শনে, বিশালকায় সাম্রাজ্যে বা রাষ্ট্রে নয়, বাহুতে বা অস্ত্রে নয়। অস্ত্র আর বুদ্ধিবৃত্তি পরস্পরের বিপরীত। রাজনীতিকে বুদ্ধিবৃত্তির দিকে নিতে হয়, তাতেই বিরাজিত মানুষের মানুষ হওয়া; অমানুষ না হয়ে ওঠা।
লেখক : প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ