Home / খেলা / অ্যান্ডারসনের রেকর্ড

অ্যান্ডারসনের রেকর্ড

নাইরোবি থেকে কুইনস্টোন। দুরত্ব মাত্র আট হাজার মাইল। অথচ কেনিয়ায় সৃষ্টি হওয়া প্রলয়ঙ্কারী ঝড়টি কিনা নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তাণ্ডব দেখালো দীর্ঘ ১৭ বছর পর! ১৯৯৬ সালে নাইরোবিতে যেটির নাম ছিল ‘আফ্রিদি সাইক্লোন’, নিউজিল্যান্ডের কুইনস্টোনে গিয়ে সেটি হয়ে যায় ‘অ্যান্ডারসন সুনামী’! আর এই সুনামীর তাণ্ডবে কাল ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সৃষ্টি হয় নতুন এক ইতিহাস।

মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কোরি অ্যান্ডারসন ভেঙে দিলেন শহীদ আফ্রিদির দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি। নাইরোবীতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। কাল ১৩১ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলে অ্যান্ডারসন যেন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসকে লিখলেন নতুন করে! এখন তিনিই দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান।

কিউই তারকা সব দিক থেকেই যেন ছাপিয়ে গেছেন আফ্রিদিকে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন আফ্রিদি, আর অ্যান্ডারসনের ছক্কা ১৪টি। আফ্রিদি ১০২ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন, অ্যান্ডারসন ১৩১ রান করেও অপরাজিত। তাছাড়া নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ছক্কা হয়েছে ২২টি, এটিও একটি রেকর্ড। নাইরোবিতে পাকিস্তান জিতেছিল ৮২ রানে, কুইনস্টোনে নিউজিল্যান্ডের জয় ১৫৯ রানের। তবে আফ্রিদির সঙ্গে একটা জায়গায় মিল রয়েছে অ্যান্ডারসনের, দুইজনেরই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। পার্থক্য এখানেই, ১৬ বছর বয়সের আফ্রিদি করেছেন দ্বিতীয় ম্যাচে আর ২৩ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন পঞ্চম ম্যাচে।

২১ ওভারের ম্যাচে নিউজিল্যান্ড চার উইকেটে করে ২৮৩ রান। ২০ ওভারে কিউইদের রান ছিল ২৭৫। টি-২০ ক্রিকেট হলে এটি হতো সর্বোচ্চ স্কোরের নতুন রেকর্ড। নিউজিল্যান্ড ওভার প্রতি রান করেছে ১৩.৪৭ গড়ে, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে আরেকটি রেকর্ড। আর এই রেকর্ডময় ম্যাচের মধ্যদিয়ে নতুন বছর উদযাপন করল ম্যাককালামরা। পাঁচ ম্যাচেও ওয়ানডে সিরিজেও আসল ১-১ সমতা।

এক বছর আগে এই জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোরি অ্যান্ডাসনের। বছর ঘুরে আসতে না আসতে সেই জানুয়ারির প্রথম দিন গড়লেন মহাকাব্যিক এক রেকর্ড। এ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত অ্যান্ডারসন অপরাজিত ছিলেন ৪৭ বলে ১৩১ রানে, ছক্কার ফুলঝুড়ি ছাড়াও তার ইনিংসে ছিল ৬টি বাউন্ডারি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ম্যাচে ক্যারিবীয়রা তাদের পুরো ইনিংসে অ্যান্ডারসনের সমান স্কোর করতে পারেনি। ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দুর্ভাগ্য আরেক কিউই তারকা ব্যাটসম্যান জেসি রাইডারের। নিজের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি করেও তিনি অ্যান্ডারসন আলোয় ম্রিয়মাণ হয়ে গেছেন কাল। তার সেঞ্চুরিটা ছিল ৪৬ বলে। বর্তমানে এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে পঞ্চমতম দ্রুত সেঞ্চুরি। তৃতীয় দ্রুত সেঞ্চুরিটি সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান মার্ক বাউচারের, ২০০৬ সালে পোর্টচেফস্টোর্মে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি রয়েছে দুটি- একটি ব্রায়ান লারার, আরেকটি আফ্রিদির।

ভাবতে অবাকই লাগে, ইতিহাস গড়ার পরও অ্যান্ডারসনের অনুভূতি কতই না সাদামাটা! ‘ভালোই লাগছে। তবে আমার বেশি ভালো লাগছে এই ভেবে যে, ম্যাচে আমরা দারুণ একটা জয় পেয়েছি। টার্গেট ছিল বেশি বেশি সিঙ্গেল রান নেওয়া। কিন্তু আমরা অনেক বেশি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছি।’ তবে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্যান্ডন ম্যাককালাম কিন্তু উচ্ছ্বসিত। ‘আমার মনে হয় না, এটা শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। আমরা দারুণ খেলেছি। জানতাম, এই উইকেটে ভালো করা সম্ভব। তাই বলে এতোটা ভালো হবে তা ভাবতেও পারিনি। আমরা পুরো ম্যাচেই বিধ্বংসী ছিলাম। এটা সত্যিই অদ্ভূত এক ম্যাচ।’

অনেক পাওয়ার ম্যাচেও হয়তো কিছুটা না পাওয়ার বেদনা ছুঁতেই পারে কিউই ভক্তদের হৃদয়, ইস, ম্যাচের দৈর্ঘ্যটা যদি ২১ ওভার না হয়ে ৫০ ওভারের হতো! অ্যান্ডারসনের সুনামী যে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকতো! সে যাই হোক, রাতে হৈ হুল্লোড় করে থার্টিফার্স্ব নাইট উদযাপনের পর দিনের আলোতে অ্যান্ডারসনের বীরত্বে যেন স্বর্গীয় সুখ অনুভব করল কিউরা। ক্যারিবীয়দের হৃদয় পুরলেও নতুন নিউজিল্যান্ডবাসীর জন্য নিয়ে এলো শান্তির বারতা।

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ