Home / শীর্ষ সংবাদ / কীভাবে রক্ষা করবেন দেশ

কীভাবে রক্ষা করবেন দেশ

শারমিন আক্তার : আঁটি থেকে কঞ্চি বড়- শুনতে অবাক লাগলেও এটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ। এটি যে তার সাম্প্রতিক প্রমাণও আছে, যেমন ইমরান এইচ সরকার। দাবি করেছিল ‘আমরাই সরকার’, ‘আমাদের সাথে ১৬ কোটি লোক আছে’, ছোটখাট ডিসি-এসপি চোখে রুচে না, স্মারকলিপি দেন প্রেসিডেন্ট, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি গোছের লোকদের। আদালতের দিকে আদেশ নির্দেশ জারি করেন, কিন্তু তাতেও আদালত অবমাননা হয় না! মিটিং দিলে ভিভিআইপি অথবা বঙ্গবন্ধু পরিবার নিরাপত্তা আইনের আওতার অনুরূপ কয়েকদিন পূর্ব থেকে বিভিন্ন নিয়মিত-অনিয়মিত গোয়েন্দা-অগোয়েন্দা, আধা-পূর্ণ বিশেষ সব বাহিনী মিলে মিটিং স্থান স্কর্ট করে রাখা হয়, ডগ স্কোয়াড দিয়ে বিস্ফোরক তল্লাশি চলে। মাইক-মাইক্রোফোন যে কে যোগায়, টিভি চ্যানেল, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, রিপোর্টাররাও যে কে কীভাবে ম্যানেজ হন তা-ও কেউ জানে না।
আর শাহবাগের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা দখল করে মাসের পর মাস ‘সরকার’ চালালো, জনগণের কী অবর্ণনীয় ভোগান্তি অথচ টুঁ শব্দটা করার সাহস হলো না কারো। আঁটি স্বয়ং কঞ্চিকে বড় বানালেন, কঞ্চির দাবি অনুযায়ী আইসিটি আইনে সংশোধনী আনা হলো, আঁটি স্বয়ং প্রকাশ্য জনসভায় আদালতকে নির্দেশ দিলেন ‘ঐ রাজপথে জনগণের দাবি শুনুন, পালস বুঝুন, রায়ে তার প্রতিফলন দেখান’- যদিও জুরিস্প্রুডেন্স ও দেশের লিগ্যাল সিস্টেমে জনগণের দাবি আর পালস বুঝে বিচার করার, রায় দেয়ার কোনো অবকাশ আদালতের নেই। তাই এই প্রথম আইসিটির বিচার প্রক্রিয়া বিতর্কিত, সন্দেহজনক, প্রশ্নবিদ্ধ হলো এই ইমরান সরকার গংদের জন্য। আঁটি একসময় নির্দেশ দিলেন কঞ্চিদের পাততাড়ি গুটাতে, কিন্তু কাজ হলো না, ততদিনে কঞ্চি সত্যি সত্যি আঁটি হয়ে গেল। আরো কত শত তামাশা কাহিনী থ্রিল সাস্পেন্স রোমান্স হলো বলে কি শেষ করা যাবে?
সে যাই হোক, সেই আঁটি ‘সরকার’ নাকি গোপনে পালিয়ে যাচ্ছিল কানাডায়, বেরসিক পুলিশ নাকি ঠেক দিল বন্দরে, ১৬ কোটি মানুষ কি প্রতিরোধ করল, না হাত তালি দিল বুঝলাম না অথবা ১৬ কোটি মানুষের কয়জন উনাকে বিদায় সম্ভাশন জানাতে তথায় গেলেন তাও চেষ্টা করে জানা গেলে না, উনার পরিবার পরিজনের কেউও কি সাথে ছিল তাও জানলাম না। কিন্তু বিস্মিত হলাম এত্তো এত্তো বিরিয়ানি, পাত্তিকড়ি, খাতির-যত্ন, আদর-আত্তি, আশকারা-মশকরা যে আঁটি করল, সে আঁটির দুর্দিন দেখা মাত্র ১৬ কোটি মানুষের নয়নের মণি এত্তো বড় ‘সরকার’ এক্কেবারে ‘ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সরকার’ হয়ে পগার পাড় দিচ্ছিল? বুঝলাম ‘আঁটি থেকে কঞ্চি বড়’ কদাচিৎ হয় তবে সাময়িক, কঞ্চি কঞ্চিই থাকে। এখানেই শেষ করতে পারতাম কিন্তু একটু আঁতকে উঠলাম যখন আমার নিত্যদিনের বিগ্রহের প্রতিপক্ষ একটা বিলিয়ন টন দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল, এই সরকারেরও জন্ম বাম আঁতুড় ঘরে যারা বঙ্গবন্ধুকে শান্তি দেন নাই, বঙ্গবন্ধু কন্যাকেও বিলীন, সর্বস্বান্ত করে দিল। হয়তো এটাই রাজনীতি, যেখানে আমি নেহায়েত অপাঙক্তেয়, বিশেষভাবে অজ্ঞ, শুধুই ভীমরতি খাই।
অতি সাম্প্রতিক কিছু স্থানীয় ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ভয় হচ্ছে জাতির ‘বঙ্গভবন’ আর ‘গণভবন’ কানেকশন সর্বোতভাবে দেশে-বিদেশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বা পড়ছে কিনা। যেমন-
১) আমরা অভিযুক্ত করলাম ও বিচার করলাম এবং শাস্তি দিলাম এবং শাস্তি কার্যকর করলাম যথাক্রমে যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের এবং যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীর। কিন্তু দেশের একটা বৃহৎ অংশ সেটা যেমন মানছে না, তেমনি বিশ্বও এর পক্ষে কথা বলছে না। কী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কী বিচ্ছিন্নভাবে জাতিসমূহ এমনকি জাতিপুঞ্জ বিভিন্নভাবে বলছে যে ‘বিরোধী নেতা’ বা ‘ইসলামী নেতা’ বা ‘ধর্মীয় নেতা’কে ‘ফাঁসি দেয়া হয়েছে’ বা ‘রাষ্ট্রীয় হত্যা করা হয়েছে’ এমনকি ‘জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে’।
২) সমস্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কূটনৈতিক শিষ্টাচার, রেওয়াজ, রীতিনীতি উপেক্ষা ও ভঙ্গ করে দেশে কর্মরত ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনগুলো আমাদের জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বা আনুষ্ঠানিকতা তথা ‘জাতীয় সৌধে বীরদের স্মরণ ও সম্মান প্রদর্শন’ বর্জন করেছে।
৩) বিশ্বের শান্তি মিশন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রভৃতি আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের সরব ও গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি খর্ব করার উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে তথাকথিত গণশুনানি-ব্যবস্থা ধরনের আজগুবী কিছু সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে।
৪) পক্ষান্তরে দেশের আম জনতাকে ‘মানব পতাকার গিনেস রেকর্ড’ বা ‘সর্বাধিক সংখ্যক গণঅংশগ্রহণে জাতীয় সঙ্গীত চর্চা’ ধরনের কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর অন্তরালে গণহত্যা আর এস্কেভেটর বুলডোজার সহকারে আইন ও বিচার-বহির্ভূত উচ্ছেদ ক্রেকডাউন চলছে।
এসব কিসের আলামত? আমাদের পররাষ্ট্র বিভাগ আর দেশে দেশে অবস্থিত মিশনসমূহ কি সঠিক তথ্য প্রচারে, জায়গামত উপস্থাপনে, সরবরাহে এবং আপত্তি-প্রতিবাদ জানাতে নিষ্ক্রিয় বা ব্যর্থ? নাকি আমাদের রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী মিশনসমূহকে কেউ পাত্তা-গুরুত্ব দিচ্ছে না বা আমলে নিচ্ছে না। নাকি গোড়াতেই গলদ দেখা দিয়েছে, মানে রাষ্ট্রের কোনো সরকার নেই বা যা আছে কোনো বৈধতা নেই জ্ঞানে বিশ্বসম্প্রদায় অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করে চলেছে।
কাতুকুতু দিয়ে বেশিক্ষণ জনগণের হাসি ধরে রাখা যাবে না কিন্তু, ওরা এর অন্তসারশূন্যতা অচিরেই টের পেয়ে যাবেন। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে ব্যবস্থা নিন নতুবা দায় স্বীকার করে দেশের মালিকদের হাতে দেশ অতিসত্বর ছেড়ে দিন, তারাই বুঝবেন তাদের দেশ কীভাবে রক্ষা করবেন।
– লেখক : প্রাবন্ধিক

আজকের নিউজ আপনাদের জন্য নতুন রুপে ফিরে এসেছে। সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। - আজকের নিউজ